নাসিকে ভয়ঙ্কর বন্যা! জলের তলায় মন্দির-রাস্তাঘাট, গ্ৰেফতার এড়াতে প্রশাসনের বড় পদক্ষেপ!

মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শহর নাসিকে একটানা মুষলধারে ভারী বৃষ্টি এবং বাঁধ থেকে অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেওয়ার কারণে পবিত্র গোদাবরী নদীর জলস্তর হঠাৎ করেই বিপজ্জনকভাবে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে শহরের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকাগুলো সম্পূর্ণরূপে জলের তলায় চলে গিয়েছে, যার জেরে স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বন্যার এই ভয়াল রূপের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে ব্যাপক আর্থিক ও পরিকাঠামো গত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একে একে আবাসিক বাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্লাবিত হওয়ার পর এবার নদী তীরবর্তী প্রাচীন মন্দিরগুলোও জলের নিচে ডুবতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বড় ধরনের কোনো বিপদের ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং নদী ঘাট সংলগ্ন সমস্ত দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে প্রশাসন নাসিক শহর এবং গোদাবরী নদীর সংলগ্ন সমস্ত বন্যাপ্রবণ এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের নদীর ধারে বা চত্বরে যাতায়াত করতে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সমগ্র এলাকায় উচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা বিভিন্ন হৃদয়বিদারক ছবিতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে যে, লাগাতার মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ঐতিহাসিক মন্দির এবং সাধারণ মানুষের সাজানো বসতবাড়িতে কীভাবে কোমর সমান জল ঢুকে পড়েছে।

গোদাবরী নদীতে সৃষ্ট এই আকস্মিক ও মারাত্মক বন্যার ফলে বর্তমানে গোটা নাসিক শহরে এক ভয়াবহ ও করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। শহরের যেদিকেই সাধারণ মানুষের চোখ যাচ্ছে, কেবল থৈ থৈ জল আর জল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসন যৌথভাবে অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।