নয়ডায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ফায়ার এনওসি নেই, নেই জরুরি নির্গমন পথ—কিভাবে চলছে মৃত্যুফাঁদ?

নয়ডার সেক্টর ৬৬-এর মামুরা ভিলেজে একটি পাঁচতলা ভবনে ঘটা সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি চরম গাফিলতি এবং বেআইনি নির্মাণের এক ভয়াবহ প্রতিফলন। প্রায় ১৬ বছর আগে নির্মিত এই বহুতলটিতে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা থাকলেও, অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘটনায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে স্নেহা শ্রীবাস্তব ও শারদ কুমার নামের দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা প্রশাসনিক অব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৬৬টি কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণের কোনো অনাপত্তি সনদ (NOC) ছিল না। ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর বা হাইড্র্যান্ট সিস্টেম—এর কোনোটিরই অস্তিত্ব সেখানে ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচানোর জন্য কোনো জরুরি নির্গমন পথও ছিল না, ফলে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবন থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি আটকা পড়া বাসিন্দারা। এছাড়াও, ভবনটি যে সরু রাস্তায় অবস্থিত, সেখানে দমকলের বড় গাড়ি পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হয়েছে। তার ওপর বেসমেন্ট ও নিচতলার অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা সৃষ্টি করেছিল।

ভবনটি মূলত ইজারা ভিত্তিতে পিজি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রতিটি ছোট ঘরে তিন থেকে চারজন করে গাদাগাদি করে মানুষ বাস করত। নির্মাণের সময়কার মানদণ্ডও মানা হয়নি, ভবনটি নির্ধারিত উচ্চতার চেয়েও বেশি উচ্চতায় গড়ে তোলা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই চতুর্থ তলা ও দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা ধোঁয়ার কবলে পড়ে জ্ঞান হারান এবং শেষপর্যন্ত শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনার দায় অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। পুলিশ ইতোমধ্যে ইজারাদার কৃষ্ণ কুমার, তত্ত্বাবধায়ক ধর্মেন্দ্র এবং হিসাবরক্ষক সৃজন দাস গুপ্তের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা দায়ের করেছে। প্রধান অভিযুক্ত কৃষ্ণ কুমারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে নয়ডা প্রশাসন। চিফ ফায়ার অফিসার প্রদীপ কুমার চৌবে ঘোষণা করেছেন যে, পুরো নয়ডা জুড়ে এমন বহুতল ও পিজিগুলোর বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেসব ভবনে ফায়ার এনওসি নেই কিংবা অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ভবন সিলগালা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন একটাই, নিয়মিত তদারকির অভাবে এই শহরগুলো কি তবে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে? প্রশাসনের এই অভিযান আদৌ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।