নন-স্টিক প্যানে রান্না করছেন? জেনে নিন কোটিং নষ্ট হলে অজান্তেই কী মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছেন!

রান্নাঘরের ব্যস্ততায় নন-স্টিক কড়াই বা প্যান এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তেল ছাড়া স্বাস্থ্যকর রান্নার সুবিধার জন্য আমরা নির্দ্বিধায় বেছে নিই এই আধুনিক বাসনপত্র। কিন্তু গবেষণার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বলছে, আপনার সাধের নন-স্টিক প্যানটিই যদি সামান্য আঁচড় বা স্ক্র্যাচ পায়, তবে সেটি হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব নিউজিল্যান্ডের গবেষকদের একটি সমীক্ষা এই ভয়াবহ ঝুঁকির কথা সামনে এনেছে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নন-স্টিক প্যানের বিশেষ কোটিং বা আস্তরণে যদি মাত্র একটি ছোট ফাটল ধরে, তবে রান্না করার সময় প্রায় ৯,১০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। আর যদি প্যানের সেই আস্তরণটি কিছুটা উঠে যায় বা নষ্ট হয়, তবে সেখান থেকে ২৩ লক্ষেরও বেশি প্লাস্টিক কণা নির্গত হওয়া সম্ভব। চিন্তার বিষয় হলো, এই কণাগুলোর মধ্যে কিছু কণা মানুষের চুলের তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ বেশি পাতলা, যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। এই বিশেষ কোটিংকে আমরা সাধারণ ভাষায় ‘টেফলন’ বলে থাকি। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন বা পিটিএফই (PTFE), যা এক ধরণের প্লাস্টিক। এটি পিএফএএস (PFAS) নামক রাসায়নিকের একটি বৃহৎ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত, যাদের ‘ফরএভার কেমিক্যালস’ বলা হয়।
গবেষকরা রামান ইমেজিং ও স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে পরীক্ষার জন্য নতুন এবং দুই বছরের পুরনো প্যান নিয়ে রান্নার প্রক্রিয়ার অনুকরণ করেছিলেন। দেখা গেছে, পুরনো প্যান থেকে অনেক বেশি পরিমাণে প্লাস্টিক কণা নির্গত হচ্ছে। মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)-এর তথ্যমতে, এই ‘ফরএভার কেমিক্যালস’ বা পিএফএএস শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
তবে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা এই ঝুঁকি এড়াতে পারি। নন-স্টিক কড়াইতে রান্না করার সময় স্টিল বা লোহার চামচ বা খুন্তি ব্যবহার করবেন না। এর বদলে সিলিকন, কাঠের বা প্লাস্টিকের তৈরি চামচ ব্যবহার করলে প্যানের আস্তরণ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এছাড়া বাসন ধোয়ার পর একটার ওপর একটা স্তূপ করে রাখার সময় মাঝখানে নরম কাপড় বা পেপার টাওয়েল দিন, যাতে ঘষা লেগে স্ক্র্যাচ না পড়ে। ধোয়ার সময় স্টিলের স্ক্রাবার ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ।
যদি দেখেন আপনার প্যানের রঙ বদলে গেছে বা স্পষ্টভাবে আঁচড় দেখা যাচ্ছে, তবে দেরি না করে সেটি দ্রুত বাতিল করুন। ভারী রান্নার জন্য স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রনের কড়াই ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। হালকা ও কম নাড়াচাড়ার খাবারের জন্য নন-স্টিক প্যান সীমিত ব্যবহার করে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সচেতন হোন, কারণ আপনার রান্নার সরঞ্জামই হতে পারে আপনার দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার কারণ।