নথিপত্র নেই, নামও নেই ২০০২ সালের তালিকায়! মালদার দুর্গতদের সমস্যা মেটাতে কী আশ্বাস দিল নির্বাচন কমিশন?

ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙনের কারণে মানচিত্র থেকে আস্ত একটি জনপদ মুছে যাওয়ার পর এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR – Special Enrolment Revision) জেরে মহাবিপদে পড়েছেন মালদা জেলার ভাঙন দুর্গতরা। নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ায় এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায়, তাঁরা আশঙ্কা করছেন যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এবার তাঁদের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য বুধবার তাঁরা কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
কী কারণে এই বিপদ?
মালদা জেলার কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের কাঁকড়বন্ধা ঝাউবোনা গ্রাম পঞ্চায়েত সম্পূর্ণ গঙ্গাগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় ভিটেমাটি ও জীবন বাঁচাতে মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হন, কিন্তু সঙ্গে আনতে পারেননি কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।
২০০২ তালিকা: গঙ্গা ভাঙনের কারণে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় এই মানুষগুলোর নাম ছিল না।
বর্তমান আশঙ্কা: বর্তমানে যখন এসআইআর নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন তাঁদের আশঙ্কা যে এই নতুন সংশোধনী প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম সম্পূর্ণ বাদ পড়ে যাবে।
এই সমস্যা আগেই আঁচ করেছিল ইটিভি ভারত। সেই আশঙ্কাই সত্যি হওয়ায় ‘গঙ্গা ভাঙন নাগরিক অ্যাকশন প্রতিরোধ কমিটি’-র মাধ্যমে দুর্গতরা কমিশনের অফিসে গিয়ে নিজেদের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
দেড় হাজার মানুষের সমস্যা
গঙ্গা ভাঙন নাগরিক অ্যাকশন প্রতিরোধ কমিটির মুখপাত্র তারিকুল ইসলাম বলেন, “গঙ্গার ভাঙনে কেবি ঝাউবোনা এখন জলের তলায়। প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের যাবতীয় নথিপত্র বাড়িতে রেখেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল এই মানুষগুলোকে। পঞ্চানন্দপুর এলাকায় প্রায় দেড় হাজার মানুষের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁদের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই।”
তিনি জানান, কমিশনের আধিকারিকরা তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং বিষয়টি বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
বিধায়কের আশ্বাস ও উদ্যোগ
মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।
তিনি জানান, “১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পঞ্চানন্দপুর এলাকায় ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙন হয়েছে। ওই এলাকার মানুষের হাতে এমন কোনো নথিপত্র ছিল না, যা দিয়ে তাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন।” তিনি স্বীকার করেন, শুধু পঞ্চানন্দপুরেই নয়, মানিকচক ও রতুয়াতেও অনেকের এই সমস্যা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পরবর্তীতে অবশ্য এই মানুষগুলোর ভোটার কার্ড হয়েছে, এবং ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁদের নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনে আলোচনা করেছি এবং এসআইআর থেকে এঁদের নাম যাতে কিছুতেই বাদ না-যায় তার আবেদন করেছি। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করবেন।”