নতুন কমিটি ঘোষণার পরেই মালদা তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন, প্রকাশ্যে গোষ্ঠীকোন্দল

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদা জেলার ১৪টি ব্লকে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু নতুন এই কমিটি নিয়েই দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, যা শাসকদলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মালদা জেলায় দারুণ ফল করলেও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল মুখ থুবড়ে পড়ে। এবার সেই ভুল শুধরে নিতে আগেভাগেই ময়দানে নেমেছে দল। কিন্তু নতুন কমিটি ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি ব্লকে পুরোনো নেতাদের বাদ দেওয়া এবং পছন্দের লোকেদের জায়গা দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।

হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ
জেলার বেশিরভাগ ব্লকে ক্ষোভ তুষের আগুনের মতো চাপা থাকলেও হরিশ্চন্দ্রপুর ১(এ) ব্লকে তা প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে পুরোনো কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে স্থানীয় বিধায়ক তজমুল হোসেনের ঘনিষ্ঠ মোশারফ হোসেনকে। এই বদল নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, তজমুল হোসেন এবং জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের ঠান্ডা লড়াইয়ের ফল এটি। বুলবুল খানের কোনও ঘনিষ্ঠকেই নতুন কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি। কর্মীদের একাংশ এর তীব্র প্রতিবাদ করে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফল আসন্ন নির্বাচনে দলকে ভুগতে হবে।

ইংরেজবাজারে কী হবে?
এদিকে, ১৫টি ব্লকের মধ্যে শুধুমাত্র ইংরেজবাজার ব্লকের কমিটি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। জানা যাচ্ছে, এই ব্লকের কমিটি গঠন নিয়ে দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মধ্যেও মতপার্থক্য চলছে। দলের একাংশ চাইছে জেলা পরিষদের সভাধিপতির স্বামী প্রসেনজিৎ ঘোষকে সভাপতি করতে, যা নিয়ে দলের নিচু তলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই প্রসেনজিতের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কর্মীদের প্রশ্ন, “অভিষেকের কটাক্ষের পরেও কি টাকাই দলের পদ পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হবে?”

জেলা সভাপতির হুঁশিয়ারি
দলের এই কোন্দল সামাল দিতে জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে নিতে হবে এবং একজোট হয়ে কাজ করে আগামী নির্বাচনে জেলার ১২টি আসনেই দলের জয় নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে দলের একাংশের মতে, জেলা নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এবং শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিকবার চেষ্টা করেও তা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কমিটি নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ যদি দ্রুত সামাল দেওয়া না যায়, তাহলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।