‘ধর্ম যার যার, রক্ষা করার দায়িত্ব তার তার’! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ শুভেন্দুর, সনাতনী ঐক্যের ডাক

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের কর্মীদের চাঙ্গা করতে মাঠে নামলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার মালদহে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীসভা থেকে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বললেন, “লড়তে হবে, লড়তে হবে… শুধু বিরোধিতা করলে হবে না, সঙ্গে সংকল্প পত্র পূরণ করতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে এদিন শুভেন্দু আসন্ন নির্বাচনের জন্য মালদহে বিজেপির লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন।

“১২টার মধ্যে ১১টা জিততে হবে” মালদহের সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, “এবার ১২টার মধ্যে ১১টা সিট জেতাতে হবে।” যদিও তিনি ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন সুজাপুর কেন্দ্রের নাম, যেখানে তাঁর মতে, “আমরা ৮ শতাংশ, ওরা ৯২ শতাংশ। বাকি সব সিট জেতাতে হবে।”

শুভেন্দু বলেন, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার পাশাপাশি জনগণের কাছে একটি বিকল্প ‘সংকল্প পত্র’ তুলে ধরা জরুরি। তাঁর দাবি, “ভোট ঘোষণা হলেই আমাদের জাতীয় নেতারা সংকল্প পত্র প্রকাশ করবেন। গোটা দেশে একটি-দুটি রাজ্য বাদে বিজেপি জিতেছে। কারণ প্রতিটি রাজ্যে আমরা সংকল্প পত্র পূরণ করেছি।”

ধর্ম রক্ষার আহ্বান: শুভেন্দু এদিন ফের ধর্ম রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার’ এই বক্তব্যকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বলেন, ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার। আর আমি বলি, ধর্ম যার-যার, রক্ষা করার দায়িত্ব তার তার।”

তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী সবসময় হিন্দু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু মুসলমান ভোট ভাগের কথা কখনও বলেন না। শুভেন্দুর কথায়, “সনাতনী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে সুবিধা নিতে চান, যেমন—আদিবাসীদের সঙ্গে কুড়মিদের ঝগড়া লাগানো, রাজবংশীদের বিভাজিত করা।

রাজ্যের বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে বলেন, “শুধু তৃণমূল-বিরোধিতা নয়, বিকল্প সরকার গঠনের সংকল্প নিতে হবে।” তাঁর মতে, শুধু লড়াই মমতার বিরুদ্ধে নয়, লড়াই নিজেদের মধ্যে দৃঢ়তা আনার। তবেই রাজ্যে পরিবর্তন সম্ভব।