প্রকৃতির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত কেই পানইয়র! মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ধ্বংসলীলা, পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিশেষ কমিটি

অরুণাচল প্রদেশে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের জেরে পরিস্থিতি চরম সংকটজনক। বিশেষ করে কেই পানইয়র (Keyi Panyor) জেলার পোসা গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ভেরিফিকেশন কমিটি’ গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কমিটির দায়িত্ব ও কর্মপদ্ধতি কেই পানইয়র জেলার ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশে গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইয়াচুলির অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার (ADC)। কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের—জলসম্পদ বিভাগ, নগরোন্নয়ন দপ্তর এবং জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিকদের (DDMO)। আগামী ২৯ জুন থেকে এই কমিটি সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে।
বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি এক নজরে:
নিহত ও নিখোঁজ: হড়পা বানে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত।
বাসস্থান ধ্বংস: পোসা গ্রামে হড়পা বানের তোড়ে NEEPCO কলোনির ১৮টি আবাসনসহ বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন: প্রবল ভূমিধসের কারণে কিমিন-পোতিন রোড এবং হোজ-পোতিন রোড (NH-13/NH-713A) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেই পানইয়রসহ মোট সাতটি জেলার সঙ্গে অরুণাচলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার ঝুঁকি: ভারত-চীন সীমান্তের কাছাকাছি থাকা একাধিক এলাকায় জরুরি পণ্য পরিবহণ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হোজ-পোতিন সড়কের মাটি এখনও অত্যন্ত অস্থির এবং নতুন করে ধসের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে আপাতত ওই রাস্তা দিয়ে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের প্রভাবে রাজ্যের পরিকাঠামোয় যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, তা পুনরুদ্ধারে প্রশাসন এখন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।