‘আগামী ৬-৮ মাসে বড় কিছু ঘটতে চলেছে!’ মোদী-শাহকে বিপাকে ফেলতে গোপন ছক কষছে INDIA জোট?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। সম্প্রতি ইন্ডি (INDIA) জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। বুধবারের ওই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সমস্ত বিরোধী নেতা-নেত্রীদের উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই রাহুল গান্ধীর আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক নেতৃত্ব নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে বড় দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা।
ইন্ডি জোটের বৈঠকে সমস্ত বিরোধী নেতানেত্রীকে উদ্দীপ্ত করে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বর্তমানে প্রবল চাপে রয়েছেন এবং তিনি কার্যত কেঁপে গিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, বিরোধীদের দেশব্যাপী প্রতিবাদের গতি এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই মুহূর্তে আন্দোলনের গতি কিছুতেই থিতিয়ে পড়তে দেওয়া যাবে না। রাহুলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর হাতে অত্যন্ত গুরুতর কিছু তথ্য রয়েছে। এমনকি সিবিআই, ইডি এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন আধিকারিকরা তাঁকে গোপনে নানা তথ্য সরবরাহ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ইভিএম ও দক্ষিণ কলকাতার প্রসঙ্গ
যে রাজ্যগুলিতে বিরোধী দলগুলি নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সেই বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাহুল। তাঁর মতে, সমস্ত রাজ্যে আঞ্চলিক স্তরে হয়তো যৌথভাবে পথে নামা সম্ভব নয়, কিন্তু জাতীয় স্তরে সমস্ত দলকে এক হয়েই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ইভিএম (EVM)-এ কারচুপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দক্ষিণ কলকাতার উদাহরণটি সামনে আনেন এবং এই বিষয়ে আরও গভীর নজর দেওয়ার কথা বলেন। সেইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ নেতাদেরও নিজ নিজ জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে সম্মিলিতভাবে সরকারকে কোণঠাসা করা যায়।
আগামী ৬ থেকে ৮ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে সমস্ত বিরোধী নেতা-নেত্রীকে ভোকাল টনিক দিয়ে রাহুল বলেন, আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে এমন কিছু বড় ঘটনা ঘটতে পারে যা সরাসরি মোদী ও অমিত শাহকে চরম বিপাকে ফেলবে। ইতিহাস তাঁদের স্মরণ করবে এমন এক প্রজন্ম হিসেবে, যারা সংবিধান রক্ষার স্বার্থে সমস্ত মতভেদ ভুলে একজোট হয়ে লড়াই করেছিলেন। সব মিলিয়ে, এই বৈঠকের পর জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের সুর আরও চড়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।