‘ওঁকে মনে হচ্ছিল আর বাঁচানো যাবে না’! ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে নিয়ে যা বললেন বিমানের সেই ডাক্তার

 মাঝআকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা ককপিটের নৃশংস হামলার ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাওয়া এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ মছর। রক্তে ভেসে যাওয়া সেই ককপিটে তখন ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিমানে থাকা এক যাত্রী তথা পেশায় ডেন্টিস্ট মুসায়েভ শোটা (Musaev Shota)। তাঁর বয়ানে উঠে এসেছে এক রোমহর্ষক ও শিহরণ জাগানো চিত্র।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডা. মুসায়েভ জানিয়েছেন, ককপিট থেকে চিৎকার শোনার মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ মছর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং তাঁর শরীর থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটছে। তাঁর কথায়, ‘স্মিথের মাথা ও হাতের ক্ষত দেখে মনে হচ্ছিল যেন প্রায় কেটে আলাদা হয়ে গেছে। ফালা ফালা হয়ে চিরে গিয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।’

পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে মুসায়েভ তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। রক্তপাত বন্ধ করতে তিনি ক্ষতস্থানে শক্ত করে চাপ দিয়ে বেঁধে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ক্যাপ্টেনের রক্তচাপ কমতে শুরু করে এবং তিনি জ্ঞান হারানোর উপক্রম হন। চিকিৎসা চলাকালীন স্মিথ কষ্ট করে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং জানান যে অন্য পাইলট তাঁকে ছুরি মেরেছেন।

১৭ হাজার ফুট নেমে জরুরি অবতরণ

এদিকে ককপিটের ভেতরে তখন চরম বিশৃঙ্খলা। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিথ সাহসিকতা দেখিয়ে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপরই কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য দুই ‘রিলিফ পাইলট’ ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারী কো-পাইলটকে কাবু করেন এবং নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। ধস্তাধস্তির সেই কয়েক মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দক্ষ হাতে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

এখন কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিথ?

জরুরি অবতরণের পর পরই ক্যাপ্টেন স্মিথ মছরকে তাবুকের একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রিয়াধের ভারতীয় দূতাবাস এবং জেড্ডার কনস্যুলেট পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। জানা গিয়েছে, সফল অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে আইসিইউ-তে (ICU) চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে ক্যাপ্টেনের বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে কী কারণে সহ-পাইলট হঠাৎ এমন মারাত্মক হামলা চালালেন, তা নিয়ে তদন্ত জারি রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।