‘ধর্মেন্দ্র তো কেবল প্রতীক, আসল উইপোকা তো আরএসএস!’ শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় মোদী সরকারকে তুলোধোনা রাহুলের

NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড এবং তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মন্ত্রীর এই ইস্তফাকে দেশের তরুণ সমাজ ও আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে বর্ণনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই যে এই দীর্ঘ লড়াই শেষ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়ে রাহুল সরাসরি নিশানা করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) এবং নরেন্দ্র মোদী সরকারকে।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা ও রাহুলের মন্তব্য

ধর্মেন্দ্র প্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করার ঠিক আগের মুহূর্তেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই সময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার ঢঙে তিনি মন্তব্য করেছিলেন—

“নরেন্দ্র মোদী এ দেশের অতীত, ছাত্ররা ভবিষ্যৎ। অতীত কখনও ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে পারে না।” কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ায় এবং কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করায় রাহুল এই ঘটনাকে ছাত্রসমাজের বিরাট নৈতিক জয় বলে অভিহিত করেন।

‘উইপোকার মতো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঝাঁঝরা করেছে আরএসএস’

শিক্ষাক্ষেত্রের বর্তমান সংকট নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা একসময়ে গোটা বিশ্বে সমাদৃত ছিল, গত কয়েক বছর ধরে তার ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হয়েছে। বেসরকারীকরণ, দখলদারির রাজনীতি এবং নজিরবিহীন বেকারত্বের বিরুদ্ধে তরুণদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটেছে।”

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দুর্নীতি ও অক্ষমতার স্রেফ একটি “প্রমতিক বা মুখ” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান এক জন প্রতীক মাত্র— দুর্নীতি, অক্ষমতা ও শিক্ষা ধ্বংসের প্রতীক। ওঁর চলে যাওয়া ভালো কথা, কিন্তু এবার সরকারকে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে সুনির্দিষ্ট পথে হাঁটতে হবে।”

এর পরেই সরাসরি আরএসএস-কে কাঠগড়ায় তুলে রাহুল বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, “শিক্ষাক্ষেত্রে এই বিপর্যয়ের জন্য মোদীজি যতখানি দায়ী, সমপরিমাণ অপরাধী আরএসএস-ও। কারণ, উইপোকার মতো তিল তিল করে কাজ করে ওরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ মেধা ও জ্ঞানচর্চাকে ভিতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে।” শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।