রাশিয়ার S-400-এর থেকেও ভয়ঙ্কর ভারতের ‘কুশা’! ড্রোন থেকে যুদ্ধবিমান নিমেষেই ধূলিসাৎ করতে তৈরি দেশীয় ব্রহ্মাণ্ড

প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র মুকুটে যুক্ত হল আরও এক নতুন ও ঐতিহাসিক মাইলফলক। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM) ‘প্রজেক্ট কুশা’ (Project Kusha)-র প্রথম সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে এটিকে রাশিয়ার বিশ্বখ্যাত এস-৪০০ (S-400) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী দেশীয় বিকল্প বা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন পশ্চিম এশিয়া কিংবা ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভারতের সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অভিজ্ঞতা, এসব ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব কতটা অপরিসীম। ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে সুদূরপ্রসারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র—আকাশপথের যেকোনো বহুমুখী হুমকি মোকাবিলায় দেশের সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘সু সুদর্শন চক্র’ নামে একটি বিশেষ বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং জনবহুল বেসামরিক এলাকাগুলিকে আকাশপথের সমস্ত বিপদ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে এই পরিকল্পনা রূপায়ন করা হচ্ছে।

প্রজেক্ট কুশার তিনটি দুর্দান্ত সংস্করণ ও ক্ষমতা

‘প্রজেক্ট কুশা’-র আওতায় মূলত তিনটি দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (LR-SAM) তৈরির কাজ চলছে:

  • M1 সংস্করণ: যার পাল্লা ১৫০ কিলোমিটার।

  • M2 সংস্করণ: যার পাল্লা ২৫০ কিলোমিটার।

  • M3 সংস্করণ: যার পাল্লা দীর্ঘ ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

এই ত্রিস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ভারতীয় সেনার একটি বহু-স্তরীয় বা মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স আর্কিটেকচারের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে যেকোনো শত্রু দেশের যুদ্ধবিমান, স্টিলথ ফাইটার জেট, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হবে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা রুখতে ‘সুদর্শন চক্র’ একটি বিশেষায়িত ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স (BMD) কবচের ওপর কাজ করবে।

রাশিয়ার এস-৪০০ (S-400)-এর সমকক্ষ করে তুলতে এই পুরো দেশীয় ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও সমন্বিত রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এস-৪০০ সিস্টেমের তুলনায় ‘প্রজেক্ট কুশা’-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর নকশা এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী এর সক্ষমতা সহজেই বাড়ানো যায় এবং এটিকে বৃহত্তর জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে নিখুঁতভাবে একীভূত করা সম্ভব হয়।