‘দোষীদের রেহাই নেই!’ বারুইপুর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবার সাথে ফোনে কথা মুখ্যমন্ত্রীর, রাজ্যে তুঙ্গে উত্তেজনা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় গোটা এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। বিচার ও দ্রুত শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেল অবরোধের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, উত্তেজিত জনতা ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক সন্দেহভাজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে আটক অন্য এক সন্দেহভাজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, সামাজিক মাধ্যমে চার জন গ্রেফতারের যে খবর রটেছে তা ভুল।

এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা কানে পৌঁছানো মাত্রই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে ফোনে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনও অপরাধীকেই ছাড়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী আগামী মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, পরিবারটিকে কলকাতার ভবানী ভবনে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, মামলাটিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে অপরাধের পূর্ণ চিত্রটি সামনে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রাখা হয়েছে। গুজব এড়িয়ে চলার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।