“চিকিৎসা পেতে পদে পদে হয়রানি!”-অ্যাসিড হামলার শিকারদের জন্য বিশেষ সুবিধার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

অ্যাসিড হামলার শিকার ব্যক্তিদের জীবন ও চিকিৎসার প্রতিটি পদক্ষেপই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সময়নির্ভর। কিন্তু চিকিৎসার জন্য এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলের বর্তমান নিয়মাবলী যে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা এবার স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই পরিস্থিতিতে অ্যাসিড আক্রান্তদের যাতায়াত সহজ করতে কেন্দ্রীয় সরকার, রেল এবং সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নতুন ও কার্যকর নীতি তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বর্তমান ব্যবস্থায় ঠিক কোথায় সমস্যা?
শুনানির সময় রেলের তরফে জানানো হয়, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী অ্যাসিড হামলার শিকার ব্যক্তিরা তাঁদের বাসস্থান থেকে নির্দিষ্ট চিকিৎসার স্থান পর্যন্ত বিনামূল্যে ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা পান। কিন্তু এই দাবির অসারতা তুলে ধরেন আবেদনকারী এনজিওর আইনজীবী। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান নীতি অনুযায়ী এই যাতায়াতের অনুমতি শুধুমাত্র একটি গন্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে যদি কোনো আক্রান্তকে একের অধিক শহরে যেতে হয়, তবে প্রতিবার নতুন করে অনুমতি জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

হিমাচল থেকে তামিলনাড়ু, তারপর মুম্বই— ভোগান্তির জ্বলন্ত উদাহরণ
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতে হিমাচল প্রদেশের এক অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলার করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে তামিলনাড়ু যেতে হয়েছিল। এরপর স্কিন গ্রাফটিংয়ের জন্য মুম্বই এবং আদালতের কাজের জন্য দিল্লিতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তাঁর। কিন্তু বর্তমান নিয়মে ওই মহিলা শুধুমাত্র হিমাচল থেকে তামিলনাড়ু যাওয়ার অনুমতিই পেয়েছিলেন। ফলে প্রতিটি হাসপাতালের জন্য বারবার পৃথক চিঠি ও অনুমতি পাওয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হয়েছে।

আইনজীবীর কথায়, হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার পর যাতায়াতের অনুমতি জোগাড় করতেই অনেকটা সময় নষ্ট হয়, যা রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

সময়সীমা বাঁধল শীর্ষ আদালত
এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, বর্তমান ব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন করা প্রয়োজন, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখতে হবে। রেলের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলকে কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে এই জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতি তৈরির জন্য কেন্দ্রকে চার সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মনে করছে, প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অ্যাসিড আক্রান্তদের জন্য যাতায়াতের পথ সুগম করাই এখন সরকারের প্রাথমিক কর্তব্য।