দেশের ইতিহাসে এই প্রথম, ১ নভেম্বর চরম দারিদ্র্যমুক্ত রাজ্য হিসেবে ঘোষিত হবে কেরল, নজির গড়ল পিনারাই সরকার

ভারতের ৭৮ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই প্রথম। আগামী নভেম্বর মাসে বামশাসিত কেরলকে চরম দারিদ্র্যমুক্ত রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ১ নভেম্বর, রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন, আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে কেরল কার্যত চিনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্যের দাবি করতে চলেছে।
মন্ত্রী এম বি রাজেশ এই সাফল্যকে ‘অত্যন্ত গর্বের বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
‘এক্সট্রিম পভার্টি ইরাডিকেশন প্রজেক্ট’ (EPEP)
রাজ্যকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সরকার চালু করে ‘এক্সট্রিম পভার্টি ইরাডিকেশন প্রজেক্ট’ (EPEP)। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, রাজ্যে কেউ যেন চরম দারিদ্রসীমার নীচে না থাকেন। এই উদ্দেশ্যে, রাজ্য সরকার তৃণমূল স্তর থেকে নিবিড় সমীক্ষা শুরু করে দুঃস্থ পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা করে।
জরিপ অনুযায়ী, দারিদ্র্যের পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়:
আয়ের ঘাটতি (৩৫%)
স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা (২৪%)
খাদ্যাভাব (২১%)
আশ্রয়হীনতা (১৫%)
কেরলের সাফল্যের সংখ্যা
কেরল সরকার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে এই সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধান করেছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রকল্পের অধীনে এখন পর্যন্ত ৭,০৮৩টি নিরাপদ বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলি প্রমাণ করে যে, চিহ্নিত সমস্যাগুলির ওপর সরাসরি এবং কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করেই কেরল সরকার চরম দারিদ্র্য দূরীকরণে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে, যা দেশের অন্য রাজ্যগুলির কাছেও শিক্ষণীয় হতে পারে।