কয়লা খননের পথে দেউচা-পাচামি, ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ শুরু, জারি হলো নতুন টেন্ডার

বীরভূমের দেউচা-পাচামি দেওয়ানগঞ্জ-হারিনসিঙ্ঘা অঞ্চলে দ্বিতীয় পর্যায়ের বেসাল্ট খনন শুরু করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম লিমিটেড (ডাবলিউবি-পিডিসিএল)। শনিবার সংস্থাটি নতুন একটি দরপত্র বা টেন্ডার জারি করেছে, যার মাধ্যমে একটি খনি উন্নয়ন সংস্থা নির্বাচিত হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সবচেয়ে বড় এই কয়লা খনি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপায়ণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম ধাপের পর এবার পরিধি বাড়ানোর পালা
বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় ১২ একর জমিতে প্রথম পর্যায়ের বেসাল্ট খনন চলছে। এবার সেই কাজের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে প্রায় ৩১৪.৭৮ একর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে মোট ৩২৬.৭৮ একর এলাকায় একত্রে খনন কাজ চলবে।

নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচিত সংস্থাকে প্রথমে একটি পূর্ণাঙ্গ খনি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত সরকারি ও পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

আয় ভাগাভাগি: রাজ্যের রাজস্বে ৪৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব
এই প্রকল্পের চুক্তি হবে আয় ভাগাভাগি (Revenue Sharing) পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, নিগম ও নির্বাচিত বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে আয়ের অংশীদার হবে। সরকারি নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজ্যের রাজস্ব অংশীদারিত্বের হার নির্ধারিত হয়েছে ৪৫ শতাংশ। প্রথম পর্যায়েও প্রায় একই কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম পর্যায়ের খনন কাজ শুরু হয় এবং এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টন বেসাল্ট উত্তোলন হয়েছে। নিগমের প্রবীণ আধিকারিকরা মনে করছেন, বেসাল্ট খননই হলো দেউচা-পাচামি প্রকল্পের প্রথম বড় ধাপ, যার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে মূল কয়লা খননের রাস্তা তৈরি হবে।

শিল্পের অনুঘটক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
রাজ্য সরকার দেউচা-পাচামি প্রকল্পকে ‘বাংলার উন্নয়নের অনুঘটক’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখানে প্রায় ১,২৪০ মিলিয়ন টন কয়লা এবং ২,৬০০ মিলিয়ন টন বেসাল্ট মজুত রয়েছে।

নিগমের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু হলে এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষের সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় পরিকাঠামো— যেমন সড়ক, বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের কাজও সমান্তরালে চলবে।

নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া সফল হলে, পশ্চিমবঙ্গে খনিজ সম্পদ আহরণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি এক ঐতিহাসিক অধ্যায় তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।