দেবীপক্ষের সূচনায় ভক্তি ও আবেগের মেলবন্ধন! তর্পণ করতে দিঘা-মান্দারমনির ঘাটে হাজারো মানুষের ভিড়

রবিবার মহালয়ার পুণ্য লগ্নে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা ও মান্দারমনির সমুদ্র সৈকত পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষ ভোরবেলা থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করার জন্য। এই ধর্মীয় আচারে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পর্যটক—সবাই শামিল হয়েছিলেন।
ভোর থেকেই তটরেখা জুড়ে ছিল এক ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ। হাতে পিতলের কলসি, ফুল, দুধ, ফল নিয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছিল। মহালয়ার সকালে তর্পণ বাঙালির এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রীতি, যেখানে ভোরের সূর্যের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়। দিঘা ও মান্দারমনির ঘাটে এই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখা গেল। সমুদ্রতট থেকে ভেসে আসছিল সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ, যা এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করেছিল।
এই বিশাল জনসমাগম সামলাতে প্রশাসনও ছিল সতর্ক। দিঘা ও মান্দারমনির প্রতিটি ঘাটে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পর্যটকদের সমুদ্রে গভীরে নামা থেকে বিরত রাখতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। পুজোর ঠিক আগে হওয়ায় এ বছর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো, যার ফলে হোটেলগুলোতেও বুকিং ছিল সম্পূর্ণ। মহালয়ার এই তর্পণ শুধু একটি আচার নয়, এটি বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।