দূষণ ঠেকাতে এবার বস্তি এলাকাতেও ‘উজ্জ্বলা’! কাঠ-কয়লা বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা, রাজধানীতে যুদ্ধকালীন পরিচ্ছন্নতা

কুয়াশা আর ধোঁয়ার চাদরে আবারও ঢেকে গিয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লির আকাশ। রবিবার সকাল থেকে লোধি রোড, ইন্ডিয়া গেট এবং অক্ষরধামের মতো মূল এলাকাগুলিতে দৃশ্যমানতা নেমে গিয়েছে ২০০ মিটারের নীচে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) বিভিন্ন জায়গায় ৩৭৭ থেকে ৪১২-র মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা ‘ভেরি পুওর’ থেকে ‘সিভিয়র’—দুই শ্রেণিতেই পড়ছে। এটি নিরাপদ সীমার বহু গুণ বেশি।

শহরতলির আলিপুর, আনন্দ বিহার, অশোক বিহার এবং পার্শ্ববর্তী শহর নয়ডা ও গাজিয়াবাদেও AQI ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: ফুসফুস বাঁচাতে ঘরে ঘরে পিউরিফায়ার
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই মাত্রার দূষিত বাতাসে প্রতিদিন কয়েকটি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্ট, বুকজ্বালা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ফুসফুস বাঁচাতে শহরের ঘরে ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ও ফিল্টারের চাহিদা বেড়েছে আকাশছোঁয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন বহু রিল-ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখানো হচ্ছে—মাত্র এক বেলায় কীভাবে এয়ার পিউরিফায়ারের ফিল্টার মোটা ধুলোর স্তরে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।

দূষণ মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ
এই মারাত্মক পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার দুটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে:

১. বস্তিতে গ্যাস সংযোগ: প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) আওতায় শহরের বস্তিগুলোতেও বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্য, যেসব পরিবার এখনও কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করে রান্না করেন, তাদের গ্যাস দিলে দূষণ কিছুটা কমবে। এর জন্য দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডকে (DUSIB) শহরজুড়ে জরিপ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২. সাফাই অভিযান: রাজ্য প্রশাসনের তরফে সাফাই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। রাস্তায় ধুলো কমাতে চলছে জলের গাড়ি, মেকানিক্যাল ক্লিনিং এবং রোড রিপায়ারিং। প্রতিটি ওয়ার্ডে মোতায়েন করা হয়েছে মেইনটেন্যান্স ভ্যান।

ভবিষ্যতের পূর্বাভাস ও GRAP সতর্কতা
সরকারি সূত্রে খবর, এয়ার কোয়ালিটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম অনুমান করছে, আগামী কয়েকদিন দিল্লির বাতাস ‘ভেরি পুওর’ শ্রেণিতেই থাকবে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর তৃতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির কোনো আশা নেই, শুধু প্রশাসন নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।