দুর্নীতিই কাল! তারাতলায় ৯ জনের মৃত্যুর দায় কার? নাম না করে তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী

তারাতলার ভয়াবহ গুদামঘর ধসের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজ্য। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার রেশ বিধানসভার অধিবেশনেও পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিপর্যয়ের জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারের লাগামহীন দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, আগের সরকারের আর্থিক লোভ এবং দুর্নীতির কারণেই আজ শহরজুড়ে এমন মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন তিনি।

গ্রেফতার ৫, প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে নথি পেশ
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারাতলা বিপর্যয়ের প্রাথমিক ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট’ নবান্নে জমা পড়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নিশানা করেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই গুদামঘরের বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা অনুমোদনের নথিতে স্বয়ং প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে পুরসভার এগজ়িকিউটিভ থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়াররা জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কাউকে রেয়াত করা হবে না। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং অভিযুক্তদের জেল খাটতে হবে।”

৪ সপ্তাহ বন্ধ প্রোমোটিং, চলবে অডিট
বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী চার সপ্তাহ কলকাতা পুরসভা এলাকা, রাজারহাট-নিউ টাউন, সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, বজবজ এবং বিষ্ণুপুরের গ্রামীণ অঞ্চলে সব ধরনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এই চার সপ্তাহের মধ্যে ওই সব এলাকায় পাশ হওয়া সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যানের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করা হবে।

সরকারের ব্যর্থতায় তোপ
উদ্ধারকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব নিয়েও আগের সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের পাপে আজ এই দশা। ১৫ বছরে বিপর্যয় মোকাবিলার ভারী যন্ত্রপাতি বা আধুনিক লোহা কাটার মেশিন কিছুই কেনা হয়নি।” গার্ডেনরিচের ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গার্ডেনরিচেও বিপর্যয় মোকাবিলার সরঞ্জাম ছিল না। তবে এবার বিহার রেজিমেন্টের আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলেই তারাতলায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সরকার যে মানুষের জীবনের সুরক্ষায় কোনো আপস করবে না, এদিন বিধানসভায় তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।