ঘুষের টাকা না দেওয়ায় আটকে রাখা হয়েছিল ট্রাক! হাতেনাতে প্রমাণ পেতেই দুই এমভিআইকে সাসপেন্ড করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ফের একবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করা হলো। এবার দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট ও হাতেনাতে প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পশ্চিম বর্ধমান জেলার রামপুর চেকপোস্টে একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রেখে মোটা অঙ্কের ঘুষ চাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের মূল কেন্দ্রে ছিল যে, সমস্ত প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাগজপত্র নিখুঁত থাকার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ট্রাকচালকের কাছে সরাসরি ২২ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন এবং দীর্ঘক্ষণ গাড়িটিকে বেআইনিভাবে আটকে রাখেন।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অবিলম্বে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত দুই মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর (MVI) যথাক্রমে নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু বিভাগীয় নিলম্বন বা সাময়িক বরখাস্ত করেই বিষয়টির ইতি টানা হয়নি, বরং পুরো ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ফৌজদারি তদন্ত সম্পন্ন করার এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সমস্ত নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো বা এসিবি (ACB)-র দপ্তরে।
একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে যে, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা সমস্ত বাণিজ্যিক গাড়িগুলো অবিলম্বে সসম্মানে ছেড়ে দিতে হবে এবং সাধারণ পরিবহণ ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি করা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ কিংবা যেকোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কোনো সরকারি আধিকারিককে কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতেই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখা এই মুহূর্তে সরকারের একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। সরকার সম্পূর্ণ নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বিষয়ে কাজ করে চলেছে। কারণ, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন বা এসআইআর-এর সময় কিংবা তার আগের বিগত দিনগুলিতে যেভাবে বেপরোয়াভাবে ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল, সেই সমস্ত দুর্নীতির শিকড় না ফালালে সমাজকে বাঁচানো কিছুতেই সম্ভব হবে না এবং সমাজবিরোধীদের অপতৎপরতাও পুরোপুরি আটকানো যাবে না।”
তিনি আরও অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে যোগ করেন, “শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রশাসনিক পরিকাঠামো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, বিগত পনেরো বছরের জমানো নোংরা বা অব্যবস্থার জঞ্জাল শুধু পরিষ্কার করতে হচ্ছে এমনটা নয়, বরং বাম আমলের দীর্ঘদিনের শেকড় গেড়ে থাকা কুখ্যাত দুর্নীতির চড়া মাসুল আমাদের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে এবং সেই সমস্ত অপরাধের শিকড়সহ সমাপ্তি এখন আমাদেরই করতে হচ্ছে। যারা এই অশুভ কাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং যারা অতীতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়ো সার্টিফিকেট ইস্যু করে জঘন্য অপরাধ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”