‘এটা আপনাদের পাপের ফল’ ফিরহাদ হাকিমের সই করা নথি দেখিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

তারাতলা বিপর্যয়ের শোকের আবহে উত্তাল হলো রাজ্য বিধানসভা। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তারাতলার মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে কার্যত গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেআইনি নির্মাণ ও পুরসভার দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রাক্তন মেয়র তথা বর্তমান বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের দিকেই সরাসরি আঙুল তুললেন তিনি।

‘এটা আপনাদের পাপের ফল’ বিধানসভার ফ্লোর থেকে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা আপনাদের পাপের ফল। টাকা নিতে নিতে বৃহত্তর কলকাতাকে আপনারা মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন। এই রাজ্যের সর্বনাশ করেছেন আপনারা।”

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুধবার দুপুরে বিপর্যয় ঘটার ৩০ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ, দমকল, সিভিল ডিফেন্স, এনডিআরএফ (NDRF) এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করেছে। পাশাপাশি, মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি।

সরাসরি নিশানায় ফিরহাদ হাকিম এদিন বিরোধী আসনে বসে থাকা ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গার্ডেনরিচে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত ছিলেন। তাঁদেরও আপনারা বাঁচাতে পারেননি।” শুভেন্দুর অভিযোগ, ঘটনার জন্য দায়ী বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে বড়সড় দুর্নীতি রয়েছে।

বিধানসভায় তিনি বিল্ডিং প্ল্যানের নথি প্রদর্শন করে দাবি করেন, এই প্ল্যানে আমিনুর শেখ, নির্মলেন্দু সরকার ও রঞ্জন দাসের মতো পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও সই রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “পুরানো সরকার লোহার বিম কাটার মতো ন্যূনতম যন্ত্র পর্যন্ত কেনেনি। ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাস করানো হয়েছে। এসব ব্যাপারে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ পলিসি, কাউকে ছাড়া হবে না।”

তদন্ত ও গ্রেফতারি ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাও-সহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী প্রোমোটার আসগর খানের। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আসগরকে খুঁজছি। যদি সে চাপা পড়ে থাকে, তবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তা দেখা হবে। আমি চাই সে যেন জীবিত বের হয়।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কলকাতার সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করা হবে। অতীতে কী কী বেআইনি কর্মকাণ্ড হয়েছে, তার প্রতিটি স্তরের তদন্ত হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তদন্তে নতুন কী উঠে আসে এবং পুরসভার অন্দরমহলের ‘কালো বিড়াল’দের ধরতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।