দুর্গাপূজার আগে রাজ্য সরকারের বিশেষ সতর্কতা, নবান্ন অভিযানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

আসন্ন দুর্গাপূজার আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, যার মধ্যে রয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল সুপ্রতীম সরকার এবং রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব কুমার, একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নবান্ন অভিযান।
এই নবান্ন অভিযানের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্ট একটি বিশেষ রায় দিয়েছে। রায় অনুযায়ী, নবান্ন চত্বরে কোনো ধরনের উত্তেজনা ছড়ানো বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না। পুলিশ কর্মকর্তারাও এই রায়কে সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানাতে পারে, কিন্তু তা অবশ্যই নবান্ন চত্বর থেকে দূরে হতে হবে।
বিশেষ করে, নবান্ন চত্বরে কোনো রকম হিংসাত্মক কার্যকলাপ বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা হলে পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। হাওড়া জেলার ক্ষেত্রে প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য সাঁতরাগাছি বাস স্ট্যান্ডকে এবং কলকাতার জন্য রানী রাসমণি অ্যাভিনিউকে নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, যে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য আয়োজকদের আগে থেকে পুলিশের কাছে জানাতে হবে। কতজন লোক আসবে, কটি গাড়ি থাকবে, সব তথ্য পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যদি কোনো দল বা সংগঠন পুলিশের এই নির্দেশিকা না মানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবারের নবান্ন অভিযানে ‘অভয়া পরিবার’ নেতৃত্ব দেবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পেছনে কারণ হলো, এই পরিবারটি অভিযানের নেতৃত্ব ভার বিজেপি-র হাতে তুলে দিচ্ছে। তবে নবান্ন অভিযান কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। একটি বিষয় নিশ্চিত, যদি হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এই প্রতিবাদ চালানো হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তবে, একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভয়া ঘটনার পর যারা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সেই জুনিয়র ডাক্তাররা এই অভিযানে যোগ দেবেন না। যদি তারা যোগ দিতেন, তবে হয়তো বিধিনিষেধ কিছুটা কম হতো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্গাপূজার আগে শহরের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো।