ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন হুঁশিয়ারি

বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।

কলকাতার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, যে কাজ সম্পূর্ণ করতে সাধারণত দুই বছর সময় লাগে, তা কীভাবে মাত্র এক মাসে সম্পন্ন করা সম্ভব? তিনি বলেন, “যদি ভোটার তালিকায় কোনো অবৈধ ভোটার থেকে থাকে, তাহলে সেই অবৈধ ভোটারদের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সেই যুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ।” এই মন্তব্য করে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন।

বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “২০১৪ সাল থেকে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্বাচনে জিততে পারেনি। এখন এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে লাভ নেই, কারণ মানুষ বিজেপি-র বিরুদ্ধে ভোট দেবে।” তিনি এসআইআর-কে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে আখ্যা দেন। নির্বাচন কমিশনকে ‘ইয়েস স্যার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমরা বলছি ‘নো স্যার’, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হতে দেব না। এই গোপন কারচুপি আমরা বাংলায় চলতে দেব না।”

তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এসআইআর-এর নামে একজনও গরিব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমরা এক লক্ষ বাঙালিকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করব। ওদের ক্ষমতা থাকলে আমাদের আটকে দেখাবে।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপি-র ইশারায় কাজ করছে।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে আলোচনার জন্য আবেদন করেছেন বলেও জানান অভিষেক। তিনি বলেন, “আমরা চাই সংসদ চলুক, কিন্তু কেন্দ্র নিশ্চয়ই কিছু লুকাতে চাইছে, তাই তারা আলোচনা করতে চাইছে না।”

এসআইআর-এর সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এসআইআর করতে দুই বছর লাগে, তা এক মাসে কেন? যদি ভোটার তালিকায় গরমিল থাকে, তাহলে সেই একই তালিকা দিয়ে ২০২৪ সালে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, সেই সরকারও তো অবৈধ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত সবাই অবৈধ হয়ে যান।”

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করে অভিষেক জানান, “আমাদের কাছে বাংলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা আমাদের সমর্থনে এক পা হেঁটেছেন, আমরাও তাদের জন্য এক পা হাঁটব। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছি।” তিনি আরও জানান, ১১ আগস্ট ইন্ডিয়া জোটের একটি প্রতিনিধি দল সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রা করবে। যদিও পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তবে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।