দুর্গাপুর গণধর্ষণ-কাণ্ড, আরও ৫০ মিটার জঙ্গল ঘিরল পুলিশ, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের আর্জি, ‘সাম্প্রদায়িক রং লাগাবেন না’

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্রীর উপর নির্যাতনের ঘটনার পাঁচ দিন পরও চাঞ্চল্য অব্যহত। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে নির্যাতিতার এক সহপাঠীও রয়েছে। বৃহস্পতিবার তদন্তের স্বার্থে পুনরায় সেই সহপাঠীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরও ৫০ মিটার বিস্তৃত করে জঙ্গল এলাকা কর্ডন দিয়ে ঘিরে ফেলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নির্যাতিতার সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় পুলিশ একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ উত্তর পেয়েছিল। সেই কারণেই পুনরায় তাঁকে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
গ্রামবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও লজ্জা
যে বিজড়া গ্রামের পাঁচ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই গ্রামের মানুষজন এখনও কার্যত স্তম্ভিত। এই ঘটনায় চরম লজ্জা প্রকাশ করেছেন বিজড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শেখ নিজামুদ্দিন।
শেখ নিজামুদ্দিন ইটিভি ভারতকে ফোনে বলেন, “এরকম একটি দুর্ভাগ্যজনক এবং বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে বিজড়া গ্রামের নাম জড়ানোয় আমি অত্যন্ত স্তম্ভিত এবং লজ্জিত। ধৃতদের মধ্যে দু-একজন আমার স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। আমি চাইছি প্রকৃত যারা অপরাধী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের আবেগঘন আবেদন
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক বার্তা না দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “অপরাধীদের কোনও ধর্ম হয় না। তাই এটাকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি যেন না করা হয়। যত এসব নিয়ে আলোচনা হবে, ততই মেয়েটির ক্ষতি হবে। আমরা সবাই চাইছি নির্যাতিতা মেয়েটি যাতে স্বাভাবিক জীবনে দ্রুত ফিরে আসতে পারে।”
আইকিউ সিটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই এই ঘটনার স্থানটি অবস্থিত। জঙ্গল ঘেরা দূষণহীন পরিবেশে নতুন কলোনি গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও, হঠাৎ এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু জাফর মল্লিক বলেন, “এই ঘটনায় গোটা গ্রামের মানুষ লজ্জিত। এই ছেলেগুলো প্রকৃতভাবে জড়িত থাকলে আমরা ওদের শাস্তি চাইছি।”