দিল্লির হোটেলে বিধ্বংসী আগুন, ২১ জনের মৃত্যুতে কাঠগড়ায় মালিক, বন্ধ ছিল ছাদের দরজা!

দিল্লির মালভিয়া নগরের ‘ফ্লারিশ স্টে’ বিঅ্যান্ডবি হোটেলে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত কয়েক দিনের তদন্তে দিল্লি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, হোটেলের অভ্যন্তরীণ ত্রুটিপূর্ণ ওয়্যারিংয়ে শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং আরও ১১ জনের বেশি মানুষ গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন, যার মধ্যে ৯ জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাসপোর্টের ভিত্তিতে এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মৃতদের দেহ নিজ নিজ দেশে পাঠানোর জন্য বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির দূতাবাসগুলোর সম্মতিতে ইতিমধ্যেই ১০টি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

তদন্তের খাতিরে আজ ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) বিশেষজ্ঞ দলটি পুনরায় হোটেলটি পরিদর্শন করবে। গতকাল তারা শুধু একটি তলা পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কয়েকটি কক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক হিটার এবং রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হোটেলে দীর্ঘ সময় ধরে যারা অবস্থান করছিলেন, তাঁরা নিয়ম ভেঙে ঘরেই রান্না করতেন, যা আগুনের তীব্রতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে। এই ঘটনায় হোটেলের ম্যানেজার জয় মিশ্রকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মোট ১০টি তদন্তকারী দল এই ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।

তদন্তে সবথেকে বড় যে গাফিলতি সামনে এসেছে, তা হলো হোটেলের ছাদে যাওয়ার নির্গমন পথটি ঘটনার সময় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এর ফলে বাসিন্দারা বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাননি। হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সন্দেহ, লাভকেশ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, কারণ তাঁর দুই সন্তান সেখানেই থাকেন। এই আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ লাভকেশ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘লুকআউট সার্কুলার’ (এলওসি) জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ঘটনার ভয়াবহতার প্রমাণ মিলছে প্রতিটি কক্ষ থেকে। বাথরুমে পরস্পরকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধারের হৃদয়বিদারক কাহিনী ইতিমধ্যেই শোকের ছায়া ফেলেছে। জানা গিয়েছে, লাভকেশ প্রথমে মাত্র একটি দোতলা ভবন নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও পরে অনুমতি ছাড়াই আরও আড়াই তলা সম্প্রসারিত করেছিলেন। এই অবৈধ নির্মাণই কি বিপর্যয়ের কারণ? কেসার সিং নামে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ, যা অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সাহায্য করবে। গুরুগ্রামের একটি পুরো পরিবার চতুর্থ তলায় আটকা পড়েছিল। একের পর এক নিয়মভঙ্গের এই ঘটনায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy