বিধানসভায় আসছে ইউসিসি বিল? বিচারপতি রঞ্জনা দেসাইয়ের নেতৃত্বে বড় পদক্ষেপ বাংলার!

পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের নেতৃত্বে এই আইন রূপায়ণের খসড়া খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেসাইয়ের সভাপতিত্বে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১০ জুলাই রাজ্যের বিচার বিভাগীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী আগস্ট মাসেই বিধানসভার অধিবেশনে এই বিলটি পেশ করা হতে পারে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচার বিভাগীয় দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড, পশ্চিমবঙ্গ, ২০২৬’ নামে একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করেছে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো—ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের জন্য ব্যক্তিগত আইন যেমন বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং উইল সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিন্ন ও ব্যাপক আইনি কাঠামো তৈরি করা।
গত ২ জুলাই সুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভায় বিচারপতি রঞ্জনা দেসাইয়ের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। উল্লেখ্য, বিচারপতি দেসাই এর আগেও বিজেপি-শাসিত উত্তরাখণ্ড, গুজরাট এবং ছত্তিশগড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত কমিটির সভাপতিত্ব করেছেন। কমিটির অন্য আটজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, আবাসিক কমিশনার দুষ্যন্ত নারিয়ালা (আইএএস), প্রাক্তন আইএএস শত্রুঘ্ন সিং, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, অধ্যাপক ড. রত্না ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপাল চন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী উসমান গনি মালিক এবং নির্মল্যা ভট্টাচার্য।
এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বিচারপতি দেসাইয়ের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়ালের এক বিশেষ বৈঠক হয়। কমিটির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খসড়া বিলটি খুঁটিনাটি পর্যালোচনার। পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দেবে। এরপরই তা বিধানসভায় পেশ করার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের এই উদ্যোগ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পথে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে।