দিল্লিতে জারি হলুদ সতর্কতা! আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত একটানা বৃষ্টির পূর্বাভাসে কাঁপছে একাধিক রাজ্য

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে বর্ষার মেজাজ বেশ চড়া। উত্তর ভারত থেকে শুরু করে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে লাগাতার বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর (IMD)।

দিল্লি-এনসিআর ও উত্তরপ্রদেশের আবহাওয়া: জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে গত কয়েক দিন ধরেই আবহাওয়া মনোরম থাকার পাশাপাশি মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বুধবারও রাজধানীজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় দিল্লিতে হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে এই বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাতেও ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।

কোন কোন রাজ্যে বৃষ্টির লাল চোখ?

  • পূর্ব ও মধ্য ভারত: বিহারের একাধিক জেলায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ, দুমকা, দেওঘর, বোকারো, ধানবাদসহ বেশ কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়েও বর্ষার সক্রিয় প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

  • পূর্বাঞ্চল ও বাংলা: পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, আসাম এবং মেঘালয়ের বেশ কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে আসাম ও ওড়িশার বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যেই বন্যার কবলে পড়েছে। পাশাপাশি সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতেও বৃষ্টির পতন অব্যাহত রয়েছে।

  • পাহাড়ি রাজ্য ও পশ্চিমাঞ্চল: হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ভূমিধস ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোঙ্কন, গোয়া এবং মধ্য মহারাষ্ট্রেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

  • রাজস্থান ও দক্ষিণাঞ্চল: রাজস্থান, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের কিছু অংশেও জল জমে যাওয়ার খবর মিলেছে। আগামী ৬ থেকে ৭ আগস্ট পূর্ব রাজস্থানে নতুন করে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার জেরে ৭ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত জয়পুর, কোটা, ভরতপুর ও আজমেরের মতো অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া কেরালা, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুর উপকূলীয় এলাকাগুলিতেও আবহাওয়া অবনতির দিকে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, দেশের সিংহভাগ জুড়েই বরুণদেবের কৃপা ও অসন্তুষ্টি একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় নদী ও নিচু এলাকাগুলির মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।