স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ছাড়া চলবে না সংসদ! রিজিজুকে কড়া আল্টিমেটাম দিয়ে জানিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী

লোকসভায় আসন্ন সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) এবং নারী সংরক্ষণ (Women’s Reservation) সাংবিধানিক সংশোধনী বিলগুলি পাস করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি বাজেট বা বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে এই মেগা বিলগুলি নিয়ে আসার পরিকল্পনা থাকলেও সংসদে চলা লাগাতার অচলাবস্থা কাটাতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। আর এরই মধ্যে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বুধবার লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেও, সরকারের সেই উদ্যোগ আপাতত বড় ধাক্কা খেয়েছে।
১৬ আগস্ট বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তাব ও বিরোধীদের অবস্থান: সূত্রের খবর, আগামী ১৩ আগস্ট বর্তমান বর্ষাকালীন অধিবেশ শেষ হওয়ার পরেই সরকার আগামী ১৬, ১৭ এবং ১৮ আগস্ট একটি বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিয়েছে। সংবিধান সংশোধনী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিলগুলি মসৃণভাবে পাস করাতে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সমর্থন ও সহযোগিতা চাইছে কেন্দ্র। তবে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, তারা দলীয় স্তরে এবং সমমনা বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
রিজিজুকে রাহুলের কড়া শর্ত: সংসদের চলতি অচলাবস্থা নিরসন করতে এবং অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এদিন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন কিরেন রিজিজু। তবে সেই বৈঠকে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে দাঁড়িয়ে ‘অনুদান চুরি’র বিতর্ক এবং ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের বিষয়ে সদুত্তর বা বিবৃতি না দেওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলি সংসদ চলতে দেবে না। রাহুলের এই অনড় অবস্থানের কারণে রিজিজু পরে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান।
সংসদে জমে ওঠা রাজনৈতিক লড়াই: এর আগে থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের পর থেকে বিরোধীরা ‘অনুদান চুরি’ ও ছাত্র হেনস্থার মতো ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে লাগাতার সোচ্চার হয়েছে। বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি মাত্র কয়েকটি দিন। এমতাবস্থায় রাহুল গান্ধী ও কিরেন রিজিজুর মধ্যে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পরেও সংসদের জট কাটবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকারের মেগা বিল পাস করানোর তাগিদ, আর অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অনড় জেদ—সবমিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চরম সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।