দিল্লিতে সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত এক ফাঁকি এবার বন্ধ করতে চলেছে প্রশাসন। সাধারণত কম স্ট্যাম্প ডিউটি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনেকেই সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দেখান। কিন্তু এবার রাজধানীর রাজস্ব বিভাগ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় সার্কেল রেটের চেয়ে কম মূল্য দেখালে আর ছাড় মিলবে না, বরং সেই ঘাটতি অর্থ আদায়ের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে সরকার।
রাজস্ব বিভাগ সমস্ত সাব-রেজিস্ট্রার এবং জয়েন্ট সাব-রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি সম্পত্তি নিবন্ধন প্রক্রিয়া যেন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সার্কেল রেট হলো রাজ্য সরকার নির্ধারিত সম্পত্তির সর্বনিম্ন বাজার মূল্য, যার নিচে কেনাবেচা সম্ভব নয়। কিন্তু অভিযোগ, বিশেষ করে আবাসিক এলাকার বেসমেন্ট যুক্ত সম্পত্তি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দলিলে যে মূল্য দেখানো হচ্ছে, তা সার্কেল রেট অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যায়নের চেয়ে অনেক কম। এই জালিয়াতি ঠেকাতেই হাইকোর্টের নির্দেশের পর একটি নতুন সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘দিল্লি স্ট্যাম্প (দলিলের অবমূল্যায়ন প্রতিরোধ) বিধিমালা ২০০৭’ মেনে মালিকদের অবশ্যই সম্পত্তির আচ্ছাদিত এলাকা বা প্লিন্থ এরিয়া (Plinth Area) এবং মোট নির্মিত এলাকা (Physical Footprint) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। নির্মাণের খরচসহ এই মানদণ্ডগুলির ওপর ভিত্তি করেই এবার থেকে স্ট্যাম্প ডিউটি গণনা করা হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত বিল্ট-আপ এরিয়ার বদলে ভুলভাবে প্লিন্থ এরিয়ার হিসাব দেখিয়ে সম্পত্তির মূল্য কমিয়ে দেখানো হচ্ছে, যা সরকারি কোষাগারের বিপুল ক্ষতি করছে।
প্রশাসন এই জালিয়াতি রুখতে একটি সময়োপযোগী সুযোগও দিয়েছে। নিবন্ধনের সময় যদি দেখা যায় ঘোষিত মূল্য সার্কেল রেটের চেয়ে কম, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে তা জানানো হবে। তাদের নথি সংশোধন করার এবং বকেয়া স্ট্যাম্প ডিউটি মিটিয়ে ফেলার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু কেউ যদি এই নির্দেশ অমান্য করেন বা সঠিক শুল্ক পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে সাব-রেজিস্ট্রার একটি বিশেষ মন্তব্যসহ দলিলটি নথিভুক্ত করবেন এবং সঠিক বাজার মূল্য নির্ধারণের জন্য সেটি স্ট্যাম্প কালেক্টরের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
নিয়ম অনুযায়ী, নথি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাম্প কালেক্টরদের এই ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮৯৯ সালের ভারতীয় স্ট্যাম্প আইনের ৪৭-ক ধারা অনুযায়ী, এবার থেকে প্রতিটি লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ, এখন থেকে দিল্লিতে সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় সার্কেল রেট ফাঁকি দেওয়ার দিন শেষ। এই নতুন কড়াকড়ি একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব বাড়াবে, তেমনি বেআইনি লেনদেনকেও নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





