দিনের বেলা লেকচারার, রাতে ট্যাক্সিচালক! দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল ড. রাজার কাহিনী

একজন পিএইচডি এবং বিএড ডিগ্রিধারী অধ্যাপক। অথচ পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন জোগাতে তাঁকে রাতে ট্যাক্সি চালাতে হচ্ছে। এই করুণ চিত্রই ফুটে উঠেছে চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজের চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপক ড. ই তিরুমালাই রাজার জীবনসংগ্রামে। তাঁর এই লড়াই শুধু একজন ব্যক্তির কাহিনী নয়, বরং ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার করুণ দশা এবং উচ্চশিক্ষিতদের অসহায়ত্বের এক জ্বলন্ত দলিল।

ড. রাজার শিক্ষাগত যোগ্যতার তালিকা দেখলে যে কেউ অবাক হবেন। ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি, এমফিল, এমএ ছাড়াও সাইকোলজিতে এমএসসি এবং শিক্ষাবিজ্ঞানে বিএড ডিগ্রি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এখানেই শেষ নয়, তিনি একাধারে দক্ষ সম্পাদক, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ বিষয়ের আন্তর্জাতিক সেমিনারের নিয়মিত বক্তা। এত বড় মাপের মেধা নিয়েও কেন তাঁকে ট্যাক্সি চালাতে হচ্ছে? কারণ, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁর মতো যোগ্য শিক্ষকের জন্য আজও একটি স্থায়ী অধ্যাপক পদ জোটেনি।

আগে নামাক্কালের একটি কলেজে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে ২০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন তিনি। বর্তমানে চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে চুক্তিভিত্তিক লেকচারার হিসেবে তাঁর মাসিক বেতন মাত্র ৩০ হাজার টাকা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নামাক্কালে থাকেন, আর ড. রাজা থাকেন চেন্নাইয়ে। দুই জায়গার সংসার খরচ এবং সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাতে এই ৩০ হাজার টাকা আয়ে কুলিয়ে উঠতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। আর তাই, ক্লাসে পড়ানোর পর অবসর সময়ে বাধ্য হয়ে তিনি ট্যাক্সির স্টিয়ারিং ধরেন।

সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে অ্যাকাউন্টস সার্ভিস’-এর প্রবীণ আধিকারিক অনন্ত রূপনগুড়ি তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে রাজার এই লড়াইয়ের কথা তুলে ধরলে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটপাড়ায় বইছে প্রতিবাদের ঝড়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বড় বড় বুলি আওড়ানো হয়, সেখানে একজন উচ্চশিক্ষিত অধ্যাপককে কেন রাস্তায় ট্যাক্সি চালাতে হবে?

ড. রাজার এই ঘটনা ভারতের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের অনিশ্চিত জীবনের কঙ্কালসার রূপটিকে ফের একবার সামনে নিয়ে এল। হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত মেধাবী মানুষ বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন, অথচ তাঁদের না রয়েছে উপযুক্ত বেতন, না রয়েছে চাকরির নিরাপত্তা। ড. রাজা কি সঠিক মর্যাদা পাবেন? নাকি এভাবেই প্রতিভার অপমৃত্যু ঘটতে থাকবে ভারতের শিক্ষাঙ্গনে? এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।