দাফন ছাড়াই পড়ে আছেন খামেনেই! আড়ালে কি বড় কোনও অভ্যুত্থানের ভয়? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিধ্বংসী বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে গেলেও, একটি রহস্য এখনও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করছে—কেন মৃত্যুর ৫০ দিন পরেও খামেনেইয়ের জানাজা সম্পন্ন করতে পারল না ইরান সরকার?

ভয় নাকি দুর্বলতা? কেন পিছিয়ে যাচ্ছে তেহরান?

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছিল তেহরানের রাস্তায়। কিন্তু ২০২৬ সালের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরকার বর্তমানে একটি ‘অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি’ এবং অভ্যন্তরীণ ‘গণবিক্ষোভের’ আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে।

  • বিক্ষোভের ভয়: দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং যুদ্ধের ক্লান্তি থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বড় কোনও জমায়েত হলে তা সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

  • নিরাপত্তা সংকট: সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পর ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভঙ্গুর।

স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনা এবং শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা

প্রাথমিকভাবে খামেনেইয়ের মরদেহ তাঁর জন্মভূমি মাশহাদে দাফন করার কথা থাকলেও, তেহরানে একটি বিশাল গণস্মৃতিসৌধ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তিন দিনের শোক ও বিদায় অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও রহস্যজনকভাবে তা আর এগোয়নি। ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর মতে, ইরান সরকার এখন এতটাই দুর্বল যে তারা কোনও ঝুঁকি নিতেই সাহস পাচ্ছে না।

ট্রাম্পের ডেডলাইন ও যুদ্ধের নতুন মেঘ

এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামী বুধবার শেষ হতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বুধবারের মধ্যে চূড়ান্ত কোনও চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পারমাণবিক অধিকার নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হলেও, সর্বোচ্চ নেতার দাফন নিয়ে সরকার যে চরম চাপের মুখে রয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy