দলের অন্দরে যখন বিদ্রোহের সুর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, একের পর এক নেতা যখন প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই কলম ধরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবিতার ছলে তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের পাশাপাশি দলের অন্দরের ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদেরও কড়া বার্তা দিলেন। তাঁর নতুন কবিতার নাম দিয়েছেন—‘গিরগিটি’।
কবিতায় রাজনৈতিক বার্তায় কী রয়েছে? কবিতার ছত্রে ছত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট। বিভিন্ন সময় দলবদলু নেতাদের ‘গিরগিটি’র সাথে তুলনা করে তিনি লিখেছেন, কীভাবে পরিস্থিতির চাপে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছু মানুষ রঙ বদলান। তৃণমূলের একাংশের নেতাদের ক্রমাগত বিদ্রোহ এবং দলবিরোধী মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই মমতার এই কবিতা যে এক কৌশলী জবাব, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো সংশয় নেই।
কেন এই কবিতা? সম্প্রতি সুশান্ত ঘোষের মতো বেশ কিছু নেতা যখন প্রকাশ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন বা পদত্যাগ করছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কবিতা এক নতুন মাত্রা যোগ করল। দলের অন্দরের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি যে কোনোভাবেই আপস করতে রাজি নন, তা এই কবিতার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, যাঁরা দলের সুবিধা নিয়ে এখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন, তাঁদের সরাসরি নিশানা করেছেন নেত্রী।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রীর এই কবিতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী শিবির থেকে কটাক্ষ ভেসে এলেও, তৃণমূলের অন্দরে এখন এই ‘গিরগিটি’ কবিতা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। অনেকেই মনে করছেন, এটি নিছক কবিতা নয়, বরং দলের বিদ্রোহীদের জন্য এক কঠোর সতর্কবার্তা।
দলের ভিতরে চলা বিদ্রোহের আবহে নেত্রীর এই ‘কবিতাযুদ্ধ’ শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল বয়ে আনে, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।





