ছাদ কি তন্দুরের মতো পুড়ছে? এসি চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না? বিদ্যুতের বিল বাঁচানোর এই কৌশল জানলে মাথা ঘুরে যাবে!

ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে বর্ষার আগমন ঘটলেও তীব্র রোদ এবং ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে স্বস্তি মিলছে না। যার সরাসরি এবং সবচেয়ে খারাপ প্রভাব গিয়ে পড়ছে বাড়ির ছাদগুলোর ওপর। সারাদিন ধরে সূর্যের তীব্র তাপে ছাদ প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এসি চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ঘরের তাপমাত্রা ঝটপট কমাতে অনেকেই এসি আরও বেশি ক্ষমতায় বা জোরে চালাচ্ছেন, যার ফলে মাসের শেষে এসে বিদ্যুতের বিল আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং পকেটে টান পড়ছে।

আসলে ঘর ঠান্ডা না হওয়ার পেছনে এসির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নেই, আসল সমস্যাটি লুকিয়ে রয়েছে ঠিক আপনার মাথার ওপরের কংক্রিটের ছাদটিতে। সারাদিন ধরে সূর্যের শক্তিশালী আলো ও তাপ শোষণ করে ছাদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেই তাপ চুল্লির বা ওভেনের মতো ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ছড়াতে থাকে। এই মারাত্মক ও সাধারণ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ২০১৯ সালে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করে একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা হয়েছিল, যা ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা কমাতে এককথায় দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৯ সালে বিশিষ্ট গবেষক স্টেফানো ফানতুচি এবং ভ্যালেন্তিনা সেরা যৌথভাবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেন যে বাড়ির ছাদের নিচে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি পাতলা স্তর বা লেয়ার ব্যবহার করলে তা ঘরের ভেতরে তাপের প্রবেশ আটকাতে পারে কি না। এই গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানীদেরও বেশ চমকে দিয়েছিল। বিশেষ এই গবেষণাটি ‘Energy and Buildings’ নামক একটি আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত গবেষণা পত্রিকায় বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গিয়েছে, এই বিশেষ ফয়েল ব্যবহারের ফলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করা তাপের পরিমাণ ১০% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৩% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নির্ভর করে এটি ঠিক কীভাবে ছাদে বা সিলিংয়ে ইনস্টল করা হচ্ছে তার সঠিক কৌশলের ওপর।

এখানে বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি যে এটি রান্নার কাজে খাবার মুড়ে রাখার সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল নয়, বরং এটি একটি বিশেষ ধরনের উন্নত উপাদান যা ‘Low Emissivity’ বা কম তাপ শোষণ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সাধারণ ছাদ তৈরিতে ব্যবহৃত সিমেন্ট বা কংক্রিট সূর্যের তাপ দ্রুত শোষণ করলেও এই চকচকে রিফ্লেক্টিভ ফয়েল তাপ শোষণ না করে তার সিংহভাগ বাইরে প্রতিফলিত করে দেয়। আমেরিকার ‘Department of Energy’-এর একটি অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আধুনিক প্রযুক্তিকে ‘Radiant Barrier’ বা তাপ প্রতিরোধক স্তর বলা হয়ে থাকে। তবে এই প্রযুক্তি সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ফয়েলের চকচকে অংশের সামনে কিছুটা ফাঁকা জায়গা বা বাতাসের স্তর থাকা বাধ্যতামূলক। যদি এটি সরাসরি কোনো পৃষ্ঠের সঙ্গে একেবারে লেপ্টে লাগানো হয়, তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। গবেষকরা ইতালির তুরিন শহরের একটি বাড়ির ছাদের নিচের ঘরে বাস্তবের আবহাওয়া ও তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করে একটি বিশেষ মডেল তৈরি করেছিলেন। কম্পিউটার সিমুলেশনেও প্রমাণিত হয়েছে যে এই প্রযুক্তি বাস্তব পরিস্থিতিতে চরম কার্যকরী। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরম এলাকায় গাঢ় রঙের ছাদে এই রিফ্লেক্টিভ ব্যারিয়ারের সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।