রেকর্ডের হিসেবে মেসি এগিয়ে, অথচ পুরস্কার পেলেন পেদ্রি! ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ফুটবল বিশ্ব

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার বরাবরই বিতর্কের জন্ম দেয়। ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর সেই বিতর্ক যেন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট—কোনোটিই ক্যাবিনেটে যোগ না হওয়ায় মেসিকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
গোল্ডেন বল বিতর্ক: মেসি না কি পেদ্রি? গোটা টুর্নামেন্টে মেসির পরিসংখ্যান ছিল ঈর্ষণীয়—৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। কিন্তু ফিফা গোল্ডেন বলের জন্য বেছে নিয়েছে স্পেনের পেদ্রিকে। পরিসংখ্যান বলছে, পেদ্রি সারা টুর্নামেন্টে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। তবে স্পেনের মাঝমাঠের দখল রাখা, নির্ভুল পাসিং এবং প্রতিপক্ষের পায়ে বল থাকা অবস্থায় বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পেদ্রি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফিফার টেকনিক্যাল প্যানেল মূলত তাঁর এই কৌশলগত প্রভাবকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যদিও ফুটবল প্রেমীদের একাংশ মনে করছেন, গোল ও অ্যাসিস্টের বিচারে মেসির ধারেকাছে কেউ ছিলেন না।
গোল্ডেন বুটের দৌড়েও হার: টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’-এর জন্যও লড়াই ছিল জমজমাট। আশা ছিল মেসি ফাইনাল ম্যাচে গোল করে এই ট্রফি নিজের নামে করবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার পুরো দল তিন কাঠির মধ্যে একটিও শট রাখতে পারেনি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে ২ গোল করে গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
মেসির আবেগঘন বিদায়: ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পরও মেসি গোল্ডেন বল জিতেছিলেন, কিন্তু এবার সেই সম্মানটুকুও পেলেন না তিনি। সম্ভবত এটিই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ম্যাচ শেষে প্রিয় দলের হার এবং ব্যক্তিগত কোনো পুরস্কার না পাওয়ার যন্ত্রণায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। সেই ভিডিও মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
একনজরে ব্যক্তিগত পুরস্কারের পরিসংখ্যান:
গোল্ডেন বল: পেদ্রি (স্পেন) — মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক হিসেবে তাঁর ভূমিকা অনন্য।
গোল্ডেন বুট: কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) — টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ফাইনাল চিত্র: আর্জেন্তিনার আক্রমণভাগ স্পেনের নিখুঁত রক্ষণ ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের সামনে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। এঞ্জো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড দলের মনোবল ভেঙে দেয়।
বিশ্বকাপের ট্রফি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পুরস্কার—সবই এবার গেল স্পেনের দখলে। অন্যদিকে, মেসি যা অর্জন করলেন, তা হলো ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। কিন্তু ট্রফিহীন এই বিদায় হয়তো আর্জেন্টিনার এই মহানায়কের ফুটবল ক্যারিয়ারের একটি করুণ অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।