তৃণমূল থেকে এনসিপিআই: লোকসভায় আলাদা আসন পেলেন বিদ্রোহী সাংসদরা, এনডিএ-তে বড় চমক!

সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ভাঙন ও বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। দল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

লোকসভায় নতুন সমীকরণ রবিবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এনসিপিআই সংসদীয় কমিটির নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, লোকসভায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্য পৃথক আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের আসন বণ্টন, বিভাগীয় নম্বর এবং পৃথক ব্লক—সবই অনুমোদিত হয়েছে। সদস্যদের নতুন বরাদ্দকৃত নম্বর সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।”

বিরোধী শিবিরের অস্বস্তি সংসদে সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ায় বিরোধী দলগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, লোকসভার অন্দরে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এখন সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে সংসদ রাজনৈতিক মহলের চোখ এখন লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। ২০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে স্পিকার আজ রাত অথবা আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টার আগে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, এনসিপিআই-এর নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সব নথি স্পিকারের কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার।

এনডিএ-র সাথে পথচলা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের গোষ্ঠী এখন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করছে। আগামী দিনে সরকারের প্রতিটি নীতিগত আলোচনায় তাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই ঘটনা শুধু দলীয় ভাঙন নয়, বরং লোকসভায় তাদের শক্তিবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কৌশলে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামীকাল অধিবেশন শুরুর পর সংসদের অন্দরে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।