দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা এলাকায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নমিতা সাহার ভাই তথা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ রবিন সাহাকে। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী তছরুপের অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত বুধবার রাতে প্রাক্তন বিধায়ক নমিতা সাহার বাড়ি থেকে একটি গাড়ি ভর্তি করে ত্রিপল অন্যত্র পাচারের চেষ্টা চলছিল। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসতেই তারা গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং রবিন সাহাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর ঘটনাস্থলে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন সাধারণ মানুষ মাথার ওপর ছাউনিটুকু পাওয়ার জন্য হাহাকার করছিলেন, তখন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতারা সেই ত্রাণ সামগ্রী নিজেদের বাড়িতে গুদামজাত করে রেখেছিলেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) এবং পুলিশ প্রশাসন। বিডিওর নির্দেশে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে বিধায়কের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তারা বহুবার সাধারণ মানুষের জন্য ত্রিপল চাইলেও দেওয়া হয়নি। অথচ সেই ত্রিপলই বিধায়কের বাড়িতে মজুত ছিল।
এই ঘটনার জেরে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরেও এই ঘটনা নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, শুধু রবিন সাহা নয়, এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও বড় কোনো চক্র জড়িয়ে রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মগরাহাট থানার পুলিশ রবিন সাহাকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশি জেরায় রবিন সাহা ঠিক কী তথ্য দিয়েছেন বা এই পাচারের সঙ্গে আর কারাই বা যুক্ত, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা শাসকদলকে তোপ দাগতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের হক মেরে এইভাবে সরকারি সম্পত্তি পাচার করা দীর্ঘদিনের অভ্যাস। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আপাতত পুরো এলাকা পুলিশি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।





