বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মাথায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পালাবদল! তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের আগুন অবশেষে দাবানলের আকার নিল। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকারের স্বীকৃতি পেলেন। এর সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত হলো তৃণমূল কংগ্রেস—একদিকে আদি তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল ব্লক’। আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই নবগঠিত ব্লকের প্রথম পরিষদীয় দলের বৈঠক হতে চলেছে, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা।
সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিধায়ক আজ এই বৈঠকে অংশ নেবেন। ৫৮ জন বিধায়কের সরাসরি সমর্থন নিয়ে তিনি বিধানসভায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এমনকি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত ঘরের চাবিও ঋতব্রতর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই নতুন শিবিরে ১৭ জন সংখ্যালঘু বিধায়কও রয়েছেন, যা তৃণমূলের অন্দরে সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে ডেপুটি লিডার করা হয়েছে শিউলি সাহা এবং জাভেদ খানকে। এছাড়াও সহ-দলনেতার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন সন্দীপন সাহা।
এই ভাঙনের নেপথ্যে রয়েছে বিধায়কদের ‘সই-জালিয়াতি’ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, তাতে বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহাই প্রথম বিষয়টি বিধানসভার নজরে আনেন। এর জেরে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তাঁদের বহিষ্কার করলেও, ৪৮ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়। দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ে বিদ্রোহী শিবিরের দিকেই বেশি।
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তত্ত্বাবধানে এই নতুন ব্লকের পথচলা শুরু হচ্ছে। সই জালিয়াতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশি তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই তৃণমূলের ভিত নড়ে গিয়েছে। নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের এই দুই টুকরো হয়ে যাওয়া রাজ্যের শাসকদলের জন্য বড়সড় ধাক্কা। আজকের বৈঠকে পরবর্তী রণকৌশল কী হতে চলেছে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের এই ভাঙন শুধু দলের অন্দরেই নয়, প্রশাসনিক স্তরেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





