তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একের পর এক নেতার দলত্যাগের আবহে অভিনেতা-সাংসদ দেবকে ঘিরে দানা বেঁধেছিল জল্পনা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠক সেই জল্পনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহভাজন এই সাংসদ কি তবে দলবদল করছেন? অবশেষে এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন ঘাটালের সাংসদ দেব।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দেব জানান, তিনি কোনোদিনই রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়ে সৌজন্য বজায় রাখতে কার্পণ্য করেননি। তাঁর কথায়, “আমাকে আপনারা ২০১৪ সাল থেকেই সাংসদ হিসেবে দেখছেন। আমি সারা জীবনই সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি। আজকে যদি কেউ বলেন দেব পাল্টে গিয়েছেন, তবে বলব—না! দেব পাল্টায়নি।” দেব আরও বলেন, যে দলেরই হোক না কেন, তিনি মানুষকে সম্মান দিয়ে এসেছেন এবং কোনোদিন নিজের মঞ্চ থেকে কাউকে অপমান করেননি।
এয়ারপোর্টের একটি পুরোনো ঘটনার স্মৃতিচারণ করে দেব জানান, যখন তাঁকে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেওয়া হয়েছিল, তখনও তিনি সেই ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি এমন কোনো কাজ করেননি বা বক্তব্য রাখেননি, যাতে তাঁর দলের সম্মানহানি হয়। তিনি সর্বদা মানুষের হকের জন্য লড়াই করেছেন বলে দাবি করেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে দেব জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানই ছিল তাঁদের আলোচনার মূল বিষয়। তিনি বলেন, “আজকে আমি এখানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিতে এসেছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হবে।” অর্থাৎ, রাজনৈতিক বৈঠক নয়, বরং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য প্রশাসনিক আলোচনা করতেই তিনি এই বৈঠক করেছিলেন বলে সাফ জানিয়েছেন দেব।
সবশেষে দলত্যাগের জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে দেব বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন রয়েছেন, তাঁর জন্য আমার ভালোবাসা চিরকাল অটুট থাকবে।” অনেকে রটিয়ে দিচ্ছেন তিনি নতুন তৃণমূলে বা অন্য কোনো দলে যোগ দিচ্ছেন, এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। দলে তাঁর কথা শোনা হতো না বা তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হতো না—এমন অভিযোগও তিনি করতে নারাজ। বরং দলের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক এবং নেত্রীর প্রতি তাঁর অটুট আস্থার কথাই এদিন ফের জোর দিয়ে প্রচার করলেন অভিনেতা-সাংসদ। তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দেব আপাতত ঘাসফুল শিবিরেই নিজের অবস্থান দৃঢ় রাখছেন।





