কাঁথি থানা চত্বরে রবিবার চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হওয়া রাজনৈতিক চাপানউতোর শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পচা ডিম ছোড়ার ঘটনায় এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই বিক্ষোভে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দাবি জোরালো হয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিন নির্দিষ্ট মামলায় ধৃত কাউন্সিলরকে যখন পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময় কাঁথি থানার সামনে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একটি দল। পুলিশের গাড়ি থানার গেট দিয়ে বের হওয়ার মুহূর্তেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কাউন্সিলরকে দেখামাত্রই উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহুর্মুহু স্লোগানে কেঁপে ওঠে চারপাশ। একপর্যায়ে উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যায় যে, পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যেই কাউন্সিলরের গাড়ি লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষুব্ধরা। ডিমের আঘাতে রাস্তার ওপর থাকা সরকারি গাড়িগুলিও নোংরা হয়ে পড়ে।
এই আকস্মিক ঘটনায় উপস্থিত পুলিশ বাহিনী হকচকিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে তৎক্ষণাৎ অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী তলব করা হয়। লাঠি উঁচিয়ে বিজেপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় উর্দিধারীদের। রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, শাসকদলের মদতে এই কাউন্সিলর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অরাজকতা চালাচ্ছিলেন। তাই তাঁর গ্রেফতারি কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জয়। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিরোধীরা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
কাঁথি থানার অদূরে এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির কারণে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হন। পুলিশ কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। এখনো পর্যন্ত ধৃত কাউন্সিলরকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো গেলেও, থানা চত্বর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই ঘটনার পরে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব কোনো মন্তব্য না করলেও, বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, আইন তার নিজস্ব পথে চলবে এবং অন্যায়কারীকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।





