তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন! অভিষেককে সরাতে মমতার ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন প্রবীণ নেতারা

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ার পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে বিদ্রোহের সুর ক্রমশ চড়ছে। দলের প্রবীণ নেতাদের একাংশ সরাসরি তোপ দেগেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এখন শুধু অভিষেক-বিরোধী আওয়াজই শোনা যাচ্ছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দাবি, দলকে বাঁচাতে অভিষেককে অবিলম্বে মূল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, অভিষেককে সরিয়ে দিলেই পুরনো ও অভিজ্ঞ নেতা-নেত্রীরা ফের দলে সক্রিয় হবেন। অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে সরাসরি পথ অবলম্বন করেছেন। সূত্রের খবর, তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, হয় তাঁকে অভিষেককে বেছে নিতে হবে, নয়তো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অভিষেকের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হয়েছেন।
তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের জন্য নির্বাচন উপদেষ্টা সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)-কে দুষছেন অনেকেই। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে শুরু করে দলের একাধিক নেতার অভিযোগ, অভিষেকের অনভিজ্ঞতার কারণেই আই-প্যাকের মতো বহিরাগত সংস্থাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যা দলের ভিত নড়বড়ে করে দিয়েছে। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আই-প্যাকের রণকৌশল তৃণমূলকে বৈতরণী পার করেছিল, তবে এবারের ভরাডুবির পর সেই আই-প্যাকই এখন দলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুব্রত মণ্ডলের মতো মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতারাও পরোক্ষভাবে অভিষেকের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের মতে, দল যদি দিদির নিয়ন্ত্রণে সরাসরি থাকত, তবে এই দুর্দিন আসত না। সিউড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী সাফ জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা অটুট থাকলেও, দলের ‘সেনাপতি’র ওপর তাঁদের আর কোনো ভরসা নেই। অন্যদিকে, সন্তোষ কুমার সিং-এর মতো নেতারা ‘কর্পোরেট তৃণমূল’ তৈরির অভিযোগ তুলে অভিষেককে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন।
দলের প্রবীণ নেতাদের এই বিদ্রোহের আঁচ পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতির রাশ কিছুটা টানার চেষ্টা করেছেন। অভিষেককে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে না সরালেও, তাঁর ক্ষমতা কিছুটা খর্ব করা হয়েছে বলে খবর। ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে যুগ্ম সম্পাদক পদে নিয়োগ করা হয়েছে, যাকে অভিষেকের ওপর দলীয় নজরদারি বাড়ানোর কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে, এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেককে সরাসরি দল থেকে সরানোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেননি। তৃণমূলের এই ‘ইনসাইড স্টোরি’ এখন বাংলার রাজনীতিতে এক বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।