অযোধ্যায় রাম মন্দির অনুদানের টাকায় কোটি টাকার প্রাসাদ! অভিযুক্তের বাড়ির দেওয়ালে নোটিস প্রশাসনের

অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং তার পরবর্তী তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে প্রশাসন বর্তমানে তৎপর। এই চুরির কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্রের নির্মাণাধীন বাড়ির দেওয়ালে সম্প্রতি অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। লবকুশ মিশ্রের স্ত্রী সুপ্রিয়া মিশ্রের নামে জারি করা এই নোটিসটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৩রা জুলাই কর্তৃপক্ষ সুপ্রিয়া মিশ্রকে প্রথম নোটিস পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই তলবে তিনি সাড়া দেননি। এরপর ১৩ই জুলাই ফের দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত নোটিস জারি করে অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বুধবার, অর্থাৎ ১৫ই জুলাই সকাল ১১টার মধ্যে সুপ্রিয়া মিশ্রকে হাজিরা দিতে হবে। তাঁর নির্মাণাধীন বাড়ির বৈধতা এবং অনুমতিপত্র নিয়ে হাজিরা না দিলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। নোটিসে পরিষ্কার বলা হয়েছে, সঠিক জবাব না পেলে ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হবে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, লবকুশ মিশ্র গত বছর তাঁর স্ত্রীর নামে একটি জমি কিনেছিলেন। বর্তমানে ভানবীরপুরে সেই জমির ওপর প্রায় ১,০০০ বর্গফুটের বেশি এলাকা জুড়ে একটি বিশাল বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো নকশা অনুমোদন বা বৈধ অনুমতিপত্র নেওয়া হয়নি। অভিযোগ, অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ থেকেই এই বিলাসবহুল প্রাসাদ গড়ে তোলা হচ্ছিল। ১৫ই জুলাইয়ের মধ্যে সুপ্রিয়া মিশ্রকে নির্মাণ অনুমতিপত্র এবং অনুমোদিত বাড়ির নকশা নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হলে সিলগালা করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এই পুরো ঘটনাটি লবকুশ মিশ্রের পারিবারিক যোগসূত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। লবকুশ মিশ্র হলেন অযোধ্যার মিল্কিপুর এলাকার অনুকল্প মিশ্রের শ্যালক। অনুকল্প মিশ্র শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টে অনুদান গণনা এবং তার রক্ষণাবেক্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তীকালে লবকুশ মিশ্র নিজেও এই অনুদান গণনার কাজে যুক্ত হন। পুলিশি তদন্তে এও উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি ট্রাস্টের প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে অনুদানের অর্থ তছরুপের ছক কষেছিল। ট্রাস্টের পবিত্র কাজকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ মানুষের দান করা অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, তার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। প্রশাসন এখন এই বাড়ি সিলগালা করে এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বড় কোনো পাচারের যোগসূত্র খুঁজে পেতে বদ্ধপরিকর।