তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা যেন থামছেই না। একের পর এক সাংসদদের অবস্থান পরিবর্তন এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের খবর যখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক সেই মুহূর্তে দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ধোঁয়াশা। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে, তিনি বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং যে কোনো মুহূর্তে শাসকদল ছেড়ে বিরোধী শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখাতে পারেন।
দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ‘পাওয়ার সেন্টার’। কালীঘাট এবং তার আশেপাশের অঞ্চল খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেই দুর্গের অন্যতম প্রধান মুখ হলেন মালা রায়। কলকাতা পুরসভার চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে দক্ষিণ কলকাতার অলিগলি তাঁর হাতের মুঠোয়। এমতাবস্থায়, দক্ষিণ কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদের অবস্থান পরিবর্তনের গুঞ্জন স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে নিজের স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন মালা রায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, রাজধানী দিল্লিতে গিয়ে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে পারেন। এমনও জল্পনা শোনা যাচ্ছে যে, বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থনে প্রস্তুত করা একটি নথিতে তিনি স্বাক্ষর করার জন্য এই সফর করছেন। তবে, মালা রায় বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন সাংসদকে ঘিরে দলের ভেতরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, মালা রায়ের নাম তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদি দক্ষিণ কলকাতার মতো স্ট্র্যাটেজিক কেন্দ্রের সাংসদও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন, তবে তা তৃণমূলের জন্য শুধুমাত্র সংখ্যার লড়াইয়ে ধাক্কা নয়, বরং এক বিরাট প্রতীকী পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, লোকসভায় তাদের সমর্থক সাংসদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। লোকসভার স্পিকারের উদ্দেশে পাঠানো একটি চিঠিতে ইতিমধ্যেই একাধিক সাংসদ সই করেছেন বলে খবর। জল্পনা রয়েছে যে, সেই তালিকায় মালা রায়ের নাম যুক্ত হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। যদিও এই দাবির সপক্ষে সংসদীয় কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তবে, দক্ষিণ কলকাতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় এখন পুরো রাজনৈতিক মহল। ঘটনাটি সত্য কি না, বা এটি নিছকই জল্পনা—তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েকদিনের ঘটনাক্রমেই।





