তিহার থেকে ফিরে গ্রামের পুজোয় বাড়তি জৌলুস, অনুব্রতকে ঘিরে উচ্ছ্বাস নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামে

বিপ্লবীদের শহর মেদিনীপুর তার জমিদারি ঐতিহ্য এবং প্রাচীন দুর্গাপূজার জন্যও সুপরিচিত। এমনই এক ঐতিহ্যবাহী পূজা হলো শহরের মল্লিক বাড়ির দুর্গাপূজা। প্রায় ৩৫০ বছরের পুরোনো এই পুজোয় একসময় কামান দাগা হতো, হাতি-ঘোড়া নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন হতো। কিন্তু এখন সেই জৌলুশ আর নেই। দেবোত্তর সম্পত্তি দখল এবং আর্থিক সংকটের কারণে এই ঐতিহাসিক পুজোর অস্তিত্ব আজ সঙ্কটে।
তিহার থেকে ফিরে স্বমহিমায় অনুব্রত
দীর্ঘদিন দিল্লির তিহার জেলে থাকার পর ফিরে আসার পর থেকেই অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট মণ্ডল আবার স্বমহিমায়। বীরভূমের রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। এবার পুজোর আগে তাঁর নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। তাই এবার মণ্ডল বাড়ির শতাব্দী প্রাচীন পুজোয় বাড়তি জৌলুস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনুব্রতকে ঘিরে গ্রামজুড়ে এক অন্যরকম উৎসবের আমেজ।
গ্রামের মানুষরা তাঁকে ‘কেষ্ট মোড়ল’ নামে ডাকেন এবং এবার তিনি পুজোয় উপস্থিত থাকায় সবাই আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের আশা করছেন। অনুব্রত মণ্ডল নিজেই জানিয়েছেন, তিনি কীভাবে পুজোর দিনগুলো কাটাবেন।
অনুব্রতর পুজোর রুটিন
অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “হাটসেরান্দি গ্রামে অনেক ঠাকুর আছে, তবে আমাদের বাড়ির প্রতিমা মাটির। সব নিয়মকানুন মেনেই পুজো হয়। আমি আমার গ্রামের মায়ের মুখ দেখি, তারপর অন্য মায়ের মুখ দেখি। এবারও আমি ষষ্ঠী বা সপ্তমীর দিন গিয়ে নিজের মায়ের মুখ দেখব।”
পুজোর চার দিনই তিনি সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসবেন এবং বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ফিরবেন। তিনি বলেন, “বাড়ির পুজো, পূর্বপুরুষের পুজো, ভাল লাগে সবার সঙ্গে বসে কথা বলতে।” তিনি গ্রামের মানুষদের সরল মনের প্রশংসা করে বলেন, “ওদের নিষ্পাপ মন, ওরা সবাইকে নিয়েই চলে।”
বর্তমানে অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমে দলের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক। তাই এবারের পুজোয় তাঁর উপস্থিতিতে গ্রামবাসীদের মধ্যে উদ্দীপনা অনেক বেশি, যা তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন। বিশাল আয়োজন, নেতা-মন্ত্রীদের গাড়ি, কনভয় এবং অনুব্রতকে দেখতে আসা মানুষের ভিড় প্রমাণ করে, এই পুজো কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক শক্তিরও প্রতীক।