“৩০০ পাতার প্রমাণ”-হোস্টেলে গোপন ক্যামেরা, ছাত্রীদের নোংরা মেসেজ করতেন স্বামী চৈতন্যানন্দ

প্রখ্যাত স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তদন্তের নতুন মোড় হিসেবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর শিক্ষা বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অভিযোগপত্র সামনে এসেছে।
এয়ারফোর্সের ডিরেক্টর অব এডুকেশন পদে কর্মরত গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা একটি ই-মেইলের মাধ্যমে জানান যে, SRISIIM-এর কিছু ছাত্রী স্বামী চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। ছাত্রীদের দাবি, তথাকথিত ‘গুরুজি’ ঘন ঘন উদ্ভট সিদ্ধান্ত নিতেন এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দিতেন। এছাড়া, রাতের বেলা হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো এবং নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে (প্রাইভেট রুম) ছাত্রীদের ডেকে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।
এই অভিযোগের স্বপক্ষে ৩০০ পাতার একটি নথি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, স্বামী চৈতন্যানন্দ আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রীদের রাতে নিজের কক্ষে ডাকতেন। এছাড়াও, মহিলাদের হোস্টেলে গোপনে ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। এক ছাত্রীকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নাম পরিবর্তন করতেও বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। জোর করে ছাত্রীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত রুমে যেতে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এইসব অভিযোগে একা চৈতন্যানন্দই নন, তাঁর সঙ্গে জড়িত ছিলেন আশ্রমের কিছু কর্মী এবং অ্যাসোসিয়েট ডিন সুজাতা, যাঁরা ছাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর আশ্রম কর্তৃপক্ষ চৈতন্যানন্দের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ বাতিল করে ১১ সদস্যের একটি নতুন গভর্নিং কাউন্সিল গঠন করেছে। বর্তমানে পুলিশ স্বামী চৈতন্যানন্দকে খুঁজছে।