রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে কর্মসংস্থান নিয়ে ছিল একরাশ প্রত্যাশা। বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম থেকেই সেই লক্ষ্যে অবিচল সরকার। আজ সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্যবাসীর জন্য সেই কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি দিলেন বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। জনসংযোগের মাঝেই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যে সাড়ে ৬ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে।
নিয়োগের ব্লু-প্রিন্ট ও দিলীপ ঘোষের বক্তব্য:
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক স্তরে কর্মীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছিল উন্নয়নমূলক কাজ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এক একজন কর্মীকে প্রায় চারটি করে পঞ্চায়েত সামলাতে হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ইতিপূর্বেই একপ্রস্থ কথা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার প্রার্থীর একটি শর্ট লিস্ট আগে থেকেই তৈরি ছিল, বর্তমানে সেটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। শূন্যপদ থাকার কারণে অনেক কাজ আটকে আছে, আমরা দ্রুত সেই জট কাটাব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে, সেই তহবিলের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে জানিয়েছেন তিনি।
চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও সরকারের অবস্থান:
নতুন নিয়োগের পাশাপাশি রাজ্যের প্রায় ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক ও সিভিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কের ইতি টেনেছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে পালাবদল হলেও কোনো কর্মীকে রাতারাতি কর্মহীন করা হবে না। কোনো অমানবিক সিদ্ধান্ত নেবে না বর্তমান সরকার। হাজার হাজার পুরকর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে এবং ধাপে ধাপে বঞ্চনার শিকার হওয়া কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হবে।
কবে শুরু হবে প্রক্রিয়া?
নিয়োগের দিনক্ষণ নিয়ে দিলীপ ঘোষের ইঙ্গিত, সামনেই বিধানসভা অধিবেশন বসতে চলেছে। তার আগেই বা পরবর্তী ক্যাবিনেট মিটিংয়েই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, তেমনই দীর্ঘদিনের বেকারত্ব ঘুচবে হাজার হাজার মানুষের। প্রশাসনিক স্তরে গতি ফেরাতে এই মেগা নিয়োগই এখন বিজেপি সরকারের তুরুপের তাস হতে চলেছে।





