তিন মাসে তিনবার ‘তালাক’! সুপ্রিম কোর্টের তীব্র নিন্দা, ‘২০২৫ সালে এই প্রথা কীভাবে চলে?

মুসলিম সমাজে প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের একটি রীতি ‘তালাক-ই-হাসান’-এর তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সর্বোচ্চ আদালত সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে, এই আধুনিক ও সভ্য সমাজে শুধুমাত্র তিন মাসে একবার করে তিনবার ‘তালাক’ (Talaq) শব্দটি উচ্চারণ করার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ কীভাবে চলতে পারে। বেঞ্চ এটিকে ‘নারীর মর্যাদার প্রতি অবমাননা’ হিসেবেও অভিহিত করেছে।

⚠️ তালাক-ই-হাসান প্রক্রিয়া কী?

‘তালাক-ই-হাসান’ হলো মুসলিম আইনে বিবাহবিচ্ছেদের একটি প্রক্রিয়া। এই আইনে:

  • স্বামী তিন মাস ধরে মাসে একবার করে ‘তালাক’ উচ্চারণ করতে পারেন।

  • তৃতীয়বারের মতো তালাক ঘোষণার পর যদি স্বামী-স্ত্রী পুনরায় সহবাস শুরু না করেন, তবে তালাকটি চূড়ান্ত হয়ে যায়।

  • প্রথম বা দ্বিতীয় ঘোষণার পর পুনর্মিলন হলে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি বাতিল বলে গণ্য হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট বহুচর্চিত ‘তিন তালাক’ (Triple Talaq) প্রথাকে ইতিমধ্যেই অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছে।

❓ সুপ্রিম কোর্টের কঠোর প্রশ্ন

বিচারপতি সূর্য কান্ত, উজ্জ্বল ভুঁইয়া এবং এন কোটিশ্বর সিং-এর বেঞ্চ তালাক-ই-হাসান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই রীতির পক্ষে লড়া এক আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির মন্তব্য ছিল অত্যন্ত কঠোর:

“এটা কীরকম নিয়ম? ২০২৫ সালে এটা কী ভাবে চলতে পারে? আমরা যে ধর্মই অনুসরণ করি না কেন, এটা কি সমর্থন করা যায়? তা হলে নারীর মর্যাদা কীভাবে রক্ষা হবে? কোনও সভ্য আধুনিক সমাজে এই প্রথা চলতে পারে?”

বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় অনুশীলনকে বাতিল করা নয়, বরং এই প্রথাটি সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা নিশ্চিত করা। আদালত এই চ্যালেঞ্জটি বৃহত্তর অর্থাৎ পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।

😭 কেন দ্বারস্থ হলেন বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলারা?

 

তালাক-ই-হাসান প্রক্রিয়ায় বিবাহবিচ্ছিন্ন হওয়া কয়েকজন মুসলিম মহিলা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তাঁদের অভিযোগ, স্বামীরা এই প্রক্রিয়ায় আইনজীবীর হাত দিয়ে বিচ্ছেদের নোটিস পাঠিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এর ফলে, সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট তৈরি করা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

আদালতের এই মন্তব্যগুলি ‘তালাক-ই-হাসান’ রীতির আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল।