ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে সহপাঠীকে ধর্ষণ! ব্যারাকপুরের কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্ত তরুণ!

মহানগরীর নারী সুরক্ষা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফের এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির ওই ছাত্রীরই এক সহপাঠীর দিকে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা পুলিশের আনন্দপুর থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে অভিযুক্ত তরুণ এখনও পলাতক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ছাত্রীটি কলকাতার একটি বেসরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে তাঁর বাড়ি হলেও, পড়াশোনার সুবিধার জন্য তিনি আনন্দপুর থানা এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশকে ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তরুণ তাঁর সহপাঠী। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ওই তরুণ তাঁকে ফোন করে জানান যে, তিনি ফ্ল্যাটে কিছু জিনিস ফেলে এসেছেন, যা নিতে এসেছেন। সেই সময় ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন নির্যাতিতা তরুণী।

তাঁর অভিযোগ, ফ্ল্যাটে এসে ওই তরুণ তাঁকে ঠান্ডা পানীয় খেতে দেন। অভিযোগ, ওই পানীয়তে মাদক মেশানো ছিল। তিনি পানীয়টি খেয়েই অজ্ঞান হয়ে যান। সেই সুযোগে তরুণ তাঁকে ধর্ষণ করে।

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণে সুস্থ হতে ওই তরুণীর কিছুদিন সময় লাগে। অবশেষে গত ৮ অক্টোবর তিনি আনন্দপুর থানায় ওই তরুণের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্ত শুরু, অভিযুক্ত পলাতক
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং আগামী ১৩ অক্টোবর আদালতে তাঁর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে না চাইলেও জানান, “গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই ঘটনায় বাকিদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।”

এদিকে, অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি কলকাতার সন্তোষপুর এলাকায় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে। অভিযুক্তের বন্ধুদের পাশাপাশি প্রয়োজনে কলেজে গিয়েও কথা বলবেন তদন্তকারীরা।

নারী সুরক্ষা নিয়ে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর
প্রসঙ্গত, ঠিক তার আগের দিনই ছিল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ১৪ মাস পূর্তি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কসবার একটি আইন কলেজের মধ্যে ধর্ষণ এবং এবার আনন্দপুরে সহপাঠীকে ধর্ষণের অভিযোগ—রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে। এনসিআরবি-র পরিসংখ্যান হাতিয়ার করে তৃণমূল প্রতিবারই বিরোধীদের জবাব দিলেও, শহরে একের পর এক এই ধরনের নারী নির্যাতন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও বাড়িয়ে তুলেছে।