ট্রাম্পের প্রশংসায় মোদী, নেপথ্যে সতর্ক ভারত! বিশ্ব রাজনীতির নতুন চালে কী লুকিয়ে?

ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ আবারও বিশ্বের কূটনৈতিক মহলের নজরে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে মোদীকে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ ও ‘দুর্ধর্ষ আলোচক’ হিসেবে প্রশংসায় ভরালেও, এই বৈঠকের নেপথ্যে ভারতের কৌশল এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা-ভারতের সম্পর্কে নতুন রসায়ন তৈরি হলেও, দিল্লি এখন প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।
কেন সতর্ক ভারত? ট্রাম্প ও মোদীর মধ্যে বছরখানেক পর মুখোমুখি বৈঠক হলেও, দুই দেশের মধ্যেকার বেশ কিছু পুরনো বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে:
বাণিজ্যিক টানাপোড়েন: দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য শুল্ক সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এখনো বজায় রয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ: পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী।
রাশিয়া ইস্যু: ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের অঘোষিত অস্বস্তি এখনো বিদ্যমান।
ভারতের নতুন কৌশল: ইটি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, আগের মতো আবেগী বন্ধুত্বের চেয়ে এখন ভারত ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রাখায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের প্রশংসার জবাবে মোদীর সংযত ও আনুষ্ঠানিক মনোভাব থেকেই স্পষ্ট, দিল্লি এখন শুধুমাত্র আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গেও নিজেদের সুযোগ ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্র প্রসারিত করার নীতি নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প-মোদী বৈঠক বন্ধুত্বের বাতাবরণ তৈরি করলেও, বাণিজ্য থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জটিল বিষয়গুলো মিটতে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। দুই দেশের মধ্যে শুধু সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রয়োজন নিবিড় ও সারগর্ভ কূটনৈতিক সংলাপ। ভারত এখন সেই পথেই এগোচ্ছে—সাবধানে, অথচ নিজের স্বার্থকে অটুট রেখে।