টাকার হিসেব চাইতেই পথের কাঁটা সরাতে নৃশংস বলি! বিহারের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের হাড়হিম করা তথ্য

সম্পর্কের পবিত্রতা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। নিজের পরকীয়া সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং টাকার হিসেব থেকে বাঁচতে দুই প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করল স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ণিয়ার জানকীনগর থানা এলাকার রামজানি গ্রামে। মৃত রাজেন্দ্র মণ্ডলের পচনশীল দেহ উদ্ধারের পর পুলিশের তদন্তে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে স্তম্ভিত গোটা এলাকা।

রাজেন্দ্র মণ্ডল পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। দীর্ঘদিন ভিন রাজ্যে হাড়ভাঙা খাটুনি করে উপার্জিত টাকা দিয়ে গ্রামে একটি বাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই উদ্দেশ্যেই সম্প্রতি তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু গত ৫ই মে হঠাৎই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী গণিতা দেবী নিজেই জানকীনগর থানায় গিয়ে স্বামীর অপহরণ বা নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেন। এমনকি পুলিশের সামনে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামীর উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাতে থাকেন তিনি। তাঁর এই নিখুঁত অভিনয় দেখে প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ না হলেও, সত্যিটা চাপা থাকেনি।

পুলিশি তদন্ত চলাকালীন হলদিবাড়ি গ্রামের বর্ণেশ্বর বিতরণ খালের ধারের ঝোপ থেকে রাজেন্দ্রর পচনশীল দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি শনাক্ত করার সময়ও গণিতা দেবী কান্নায় ভেঙে পড়ার অভিনয় চালিয়ে যান। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং রাজেন্দ্রর নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখতে গিয়েই মোড় ঘোরে তদন্তে। পুলিশ জানতে পারে, রাজেন্দ্র বাড়ি ফেরার পর থেকেই স্ত্রীর চালচলন নিয়ে সন্দেহ করছিলেন এবং স্ত্রীর কাছে জমানো টাকার হিসেব চেয়েছিলেন। কিন্তু গণিতা সেই টাকার বড় অংশ তাঁর দুই প্রেমিক—সুমন কুমার ও রঞ্জিত কুমারের পিছনে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এই নিয়েই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চরমে ওঠে।

তদন্তে নেমে পুলিশের সাইবার সেল জানতে পারে, গণিতা দেবী নিয়মিত দুটি ফোন নম্বর থেকে যোগাযোগ রাখছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজেন্দ্রর খুনের দিন এবং খুনের স্থানেও ওই দুটি নম্বর সক্রিয় ছিল। এরপরেই পুলিশ ওই দুই যুবক সুমন ও রঞ্জিতকে আটক করে জেরা শুরু করতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য।

জেরায় অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে, খুনের দিন গণিতা তাঁর স্বামীর সঙ্গে বাজারে যাওয়ার সময় দুই প্রেমিককে খবর দিয়ে দেন। পরিকল্পনা মাফিক, বাজার থেকে ফেরার পথে মদের আসর বসানোর প্রলোভন দেখিয়ে রাজেন্দ্রকে প্রচুর মদ খাওয়ানো হয়। তিনি নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে নির্জন খালের ধারে নিয়ে গিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় এবং দেহ ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ফেলা হয়।

বনমনখি এসডিপিও শৈলেশ প্রীতম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহই এই খুনের মূল কারণ। ধৃত তিন অভিযুক্ত—স্ত্রী ও তাঁর দুই প্রেমিক খুনের কথা স্বীকার করেছে।” বর্তমানে পুলিশ তিন জনকেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। এক নারী তাঁর প্রেমিকের টানে নিজের স্বামীকে এভাবে শেষ করে দিতে পারে, এই ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয় মানুষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy