বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার। গত শুক্রবার এক বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৪ রুপি করে কমানোর কথা জানিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বস্তির দিনে ডিজেলের দাম নিয়ে বিশেষ কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হাই-স্পিড ডিজেলের (HSD) এক্স-ডিপো মূল্য আগামী এক সপ্তাহের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে এক লিটার ডিজেলের মূল্য ৩৮০.৭৮ রুপিতেই স্থির থাকছে। উল্লেখ্য যে, গত ১০ এপ্রিল ডিজেলের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫২০.৩৫ রুপিতে পৌঁছেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান দর প্রায় ১৪০ রুপিরও বেশি কম। হাই-স্পিড ডিজেলকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে ধরা হয়, কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই জ্বালানি।
সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ডিজেলের ওপর বিভিন্ন কর ও শুল্ক মিলিয়ে প্রতি লিটারে প্রায় ১০০ রুপি বাড়তি রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টমস ডিউটি, পেট্রোলিয়াম লেভি এবং ক্লাইমেট সাপোর্ট লেভি বা জলবায়ু সহায়তা শুল্ক। এই বিপুল পরিমাণ করের বোঝা ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অন্যদিকে, পেট্রোলের এক্স-ডিপো মূল্য ৩৮১.৭৮ রুপি থেকে কমে ৩৭৭.৭৯ রুপিতে এসে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে গত কিছুদিনে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৩৭ রুপি কমেছে, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ নাগরিকদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা বহন করছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সরকার পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ২২ রুপি কমানোর ঘোষণা করেছিল।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম খাতের রাজস্ব সংগ্রহের বড় উৎস হলো পেট্রোল এবং হাই-স্পিড ডিজেল। দেশটিতে পেট্রোল এবং এইচএসডি-র মাসিক বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ টনের কাছাকাছি। তুলনায় কেরোসিন এবং লাইট ডিজেল অয়েলের বাজার অনেক ছোট—কেরোসিনের মাসিক চাহিদা মাত্র ১০ হাজার টন। এই কেরোসিনের ওপর সরকার বর্তমানে লিটার প্রতি প্রায় ২১ রুপি এবং লাইট ডিজেল অয়েলের ওপর প্রায় ১৬ রুপি পেট্রোলিয়াম লেভি ধার্য করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে পাকিস্তানের এই মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া প্রতি শুক্রবার পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা বজায় থাকলে আগামী দিনেও এই দামের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।





