জুবিন গার্গের পুনর্জন্ম হবে! সিঙ্গাপুরের দরিদ্র পরিবারে ফিরবেন গায়ক, চাঞ্চল্যকর দাবি অসমের জ্যোতিষীর!

অসমীয়া সঙ্গীতের ‘কণ্ঠস্বর’ জুবিন গার্গের অকাল প্রয়াণে গোটা অসম শোকস্তব্ধ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫২ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় হঠাৎ মৃত্যু হয় এই জনপ্রিয় গায়কের। তাঁর শেষ যাত্রায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং ২১-গানের সমাদরে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাহুল গান্ধী সহ বহু নেতা শোক প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু এই শোকের মাঝেই জুবিনের মৃত্যু ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে।

‘কাল সর্প যোগ’ ও পুনর্জন্মের ভবিষ্যদ্বাণী
তেজপুরভিত্তিক জ্যোতিষী দিব্যজ্যোতি সৈকিয়া, যিনি ২০২২ সাল থেকে জুবিনের জন্মপত্রিকা অধ্যয়ন করছিলেন, তিনি দাবি করেছেন যে, ‘কাল সর্প যোগ’-এর প্রভাবে তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটেছে। তবে এখানেই তিনি থেমে থাকেননি:

পুনর্জন্মের তারিখ ও স্থান: সৈকিয়া দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিলের পর জুবিনের পুনর্জন্ম হবে সিঙ্গাপুরের এক দরিদ্র পরিবারে!

ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার: তিনি বলেন, “সেই শিশু ৪ বছর বয়স থেকেই গান গাইতে শুরু করবে। ১৪ বছর বয়সে অসমে আসবে এবং সেখান থেকে তার ক্যারিয়ার শুরু হবে।”

সাফল্যের শিখর: সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই পুনর্জন্ম জুবিনকে মাইকেল জ্যাকসনের চেয়েও বড় গায়ক করে তুলবে!

সৈকিয়া জুবিনের জন্মকুণ্ডলীতে (১৮ নভেম্বর ১৯৭১, বৃশ্চিক রাশি, অনুরাধা নক্ষত্র) গ্রহের অবস্থান দেখে এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর মতে, জুবিনের আত্মা অসমের সঙ্গীতকে ছেড়ে যাবে না, বরং নতুন রূপে ফিরে আসবে।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও জুবিনের উত্তরাধিকার
এই দাবি সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। কেউ এটিকে “জ্যোতিষের খেলা” বললেও, কেউ কেউ শোকের মধ্যে আশার আলো খুঁজছেন।

এদিকে, অসম সাহিত্য সভা জুবিনের সম্পূর্ণ কাজ ২০২৬ সালে বহুভাষায় প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষিত থাকে। জুবিনের শেষ ছবি ‘রয় রয় বিনালে’ ৩১ অক্টোবর মুক্তি পাবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, “জুবিন অসমের গর্ব। তাঁর স্মৃতি চিরকাল থাকবে।”

জুবিনের গানগুলো – ‘ও মায়াবিনী’, ‘ইয়া আলি’, ‘জানামি’ – লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেজে যাবে। এই পুনর্জন্মের দাবি সত্য হয় কিনা, তা সময়ই বলবে।